
কানাডা এক অপূর্ব সুন্দর দেশ। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন নয়নাভিরাম, তেমনি দেশটি সমৃদ্ধ তার মানবিক মূল্যবোধেও। বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত, অত্যাচারিত ও শরণার্থীদের জন্য এটি এক আশার আলো। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুর্দশা ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার লাখো মানুষ কানাডাকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে। তারা এখানে আসতে চায়, কারণ কানাডা শুধুমাত্র বসবাসের জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্যও সবচেয়ে উপযুক্ত দেশগুলোর একটি।
শরণার্থীরা এখানে আসে একটি ভালো জীবনের আশায়। তাদের অনেকেরই দেশে ফেরার উপায় থাকে না। হয়তো তারা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে এসেছে, হয়তো তাদের সরকার তাদের বিরুদ্ধে হয়ে উঠেছে, অথবা হয়তো তারা এমন একটি জীবন চায় যেখানে মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। কানাডা এমন একটি দেশ যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আইনগত সুরক্ষা পায়। আর তাই বহু শরণার্থী তাদের শেষ আশ্রয় হিসেবে কানাডার মাটিকে বেছে নেয়। কিন্তু অভিবাসন আইন কঠোর হওয়ার কারণে অনেকের জন্য এটি সহজসাধ্য হয়ে ওঠে না। ফলে তারা শেষ ভরসা হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে গির্জায় আশ্রয় নেয়।
সম্প্রতি শামসু মিয়া নামে একজন বাংলাদেশি কানাডিয় সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়ে দেশজুড়ে বিরাট হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। জাতীয় দৈনিকগুলোতে তার ছবিসহ একটি বিশেষ খবর প্রকাশিত হয়। জানা যায়, শামসু মিয়া একজন রিফিউজি আবেদনকারী ছিলেন এবং তার আবেদন নাকচ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আপিল সহ ইমিগ্রেশনের সকল দরজা বন্ধ হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগ ডিপোর্টেশন অর্ডার ইস্যু করে। এসময় তিনি অটোয়ার একটি চার্চে আশ্রয় গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, চার্চে কাউকে ধরার জন্য পুলিশের হানা দেয়ার নিয়ম নেই। শামসু মিয়ার মতো আরও ১২ জন ব্যক্তি একইভাবে কানাডার ৭টি চার্চে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। এরা মধ্যপ্রাচ্য, ইথিওপিয়া এবং কলম্বিয়া থেকে আগত। এদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবার নিয়েও আছেন।
কলম্বিয়া থেকে আগত অর্থনীতির অধ্যাপক আলভারো ভেগা তার স্ত্রী ও ২১ বছরের কন্যাকে নিয়ে গত বছরের জুলাই মাস থেকে কুইবেকের সেন্ট এল্লুজ নরউড ইউনাইটেড চার্চে অবস্থান করছেন। তার কন্যা মার্শেলা ভেগা তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, আজ এক বছর ধরে আমরা স্নান করতে পারি-নি। কিচেনের সিংক থেকে পাইপ লাগিয়ে বাগানে গিয়ে আমরা হাত মুখ ধুই। সাধারণ মানুষের মতো আমরা জীবনযাপন করতে পারছি না। তারপরও বলবো আমরা কলাম্বিয়ার মতো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে নেই। মার্শেলা চার্চে ইংরেজি শেখায় এবং বাচ্চাদের দেখাশোনা করে।
এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর একটি বক্তব্য চার্চ নেতাদের খুবই মর্মাহত করেছে এবং তারা বিষয়টি নিয়ে এখন খুবই সোচ্চার। ইমিগ্রেশন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি চার্চগুলোকে কানাডা প্রবেশের পেছনের দরজা হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করি, তবে আমরা বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করবো। কাউকে কোথাও লুকানোর সুযোগ দেয়া উচিত হবে না।’
চার্চ কর্তৃপক্ষ এর উত্তরে বলেন, ‘যেসব শরণার্থী দেশে ফিরে গেলে নির্যাতন বা হত্যার শিকার হবে তাদেরকে আশ্রয় দেয়া চার্চ কর্তৃপক্ষ জরুরী মনে করে।’ চার্চ কর্তৃপক্ষ আরও বলেন, ‘আমরা ইমিগ্রেশনের কথা অনুযায়ী আশ্রয় প্রার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারি না। যতক্ষণ না ইমিগ্রেশন কানাডা আশ্রয় প্রার্থীদের বিষয়ে স্বচ্ছ হবে ততক্ষণ আমরা এ ধরনের মানুষজনকে সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর।’
চার্চ নেতারা শীঘ্রই বাতিল হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের মামলাগুলো পুনঃবিবেচনা করে তাদেরকে কানাডায় বসবাস করার অনুমতি প্রদান করার জন্য ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা চার্চ সম্পর্কে মন্ত্রীর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বক্তব্যটি পরিহার করার আহ্বান করেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সর্বকালে সব দেশে পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ স্থান বলেও মনে করা হয়। কেউ গির্জার ভিতরে আশ্রয় নিলে তাকে গ্রেপ্তার করা যেত না। চার্চে আশ্রয় প্রদানের ইতিহাস প্রাচীন। আগেকার দিনে আইনের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য মানুষ গীর্জায় আশ্রয় নিতো। কানাডিয় চার্চ নেতারা বলেছেন ১৮০০ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর নির্যাতিত ক্রীতদাস পালিয়ে এসে কানাডার বিভিন্ন চার্চে আশ্রয় লাভ করার ঐতিহ্য রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে বহু ইহুদি ইউরোপের বিভিন্ন গির্জায় লুকিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে।এই ঐতিহ্য আজও কানাডায় টিকে আছে। দেশটির গির্জাগুলো মানবতার খাতিরে অভিবাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে।
মানবাধিকারের দেশ কানাডায় বেআইনিভাবে বসবাসরত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন মহল থেকে জোর দাবি উঠেছে। তারা বলেন, বেআইনিভাবে বসবাসের ফলে কেউ পুলিশের সহযোগিতা পাবে না, স্বাস্থ্য সেবা পাবে না কিংবা তাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে না তা হয় না। কে বৈধ আর কে অবৈধ অর্থাৎ কার কী স্ট্যাটাস এটা জিজ্ঞেস করা পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নয়। তারা ফেডারেল বা প্রভিন্সিয়াল সরকারের সঙ্গে কোনো তথ্য আদান প্রদান না করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
জানা গেছে, ফেডারেল ইমিগ্রেশন এন্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টে এমন কোনো ধারা নেই যা পুলিশকে বাধ্য করে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। তবে একই অ্যাক্ট অনুযায়ী বিনা জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে কোনো ব্যক্তির স্ট্যাটাস সংক্রান্ত কোনো তথ্য যদি আপনা আপনি এসে যায় তবে সে তথ্য ফেডারেল ইমিগ্রেশন মন্ত্রণালয়কে জানানো বাধ্যতামূলক।
ইতোমধ্যে টরন্টো মেগাসিটির মেয়র ডেভিড মিলার বিভিন্ন মহলের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, শহরের প্রতিটি বাসিন্দা-বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে নগরীর প্রতিটি সেবার সমান সুযোগ ও অধিকার পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সাধারণ নীতি হলো, আইনের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে নগর কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না।
এদিকে বিভিন্ন লিগ্যাল ক্লিনিক, বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র এবং ইমিগ্র্যান্ট ও রিফিউজিদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত ব্যক্তিরা মনে করেন, নগর সেবার কোনো ক্ষেত্রেই আইনের এ ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়। উদাহরণ হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঐসব শহরে কে বৈধ আর কে অবৈধ সে প্রশ্ন কেউ তুলে না। সেখানে নগর সেবার মান সবার জন্য সমান। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টারে কর্মরত আইনজীবী জোয়ান ফ্রাইডল্যান্ড জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ২৪টিরও বেশি শহরে নগর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কারো স্ট্যাটাস নিয়ে কোনো কোনো ধরনের প্রশ্ন করা বা এ জাতীয় কোনো তথ্য অনুসন্ধান করা নিষিদ্ধ করেছে।
শিকাগো, লসএঞ্জেলস, ফিলাডেলফিয়া, সান্টিয়াগো, হিউস্টন ও সিয়াটল নগর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ক আইন তৈরি করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ইমিগ্র্যান্ট, নন-ইমিগ্র্যান্ট নির্বিশেষে সকলের জন্য নগর সেবা লাভে সমান অধিকার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে স্ট্যাটাস অনুযায়ী কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারবে না। এছাড়াও কোনো কোনো শহরে ফেডারেল ইমিগ্রেশন বিভাগ কর্তৃক আইন প্রয়োগ না করার জন্যেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অন্টারিও কাউন্সিল অব এজেন্সিজ সার্ভিং ইমিগ্র্যান্টস-এর কো-অর্ডিনেটর এমি ক্যাসিপুলাই বলেন, নগরীর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য প্রদর্শন অথবা সীমিতকরণে সামাজিকভাবে অনেক ক্ষতি হয়। যা নগর কর্তৃপক্ষ বোঝতে পেরেছে। অবৈধ হওয়ার কারণে অনেকে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির টিকা নিতে আসে না। তারা অপরাধের শিকার হয়েও পুলিশকে ডাকতে ভয় পায়। অনেকে ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে পাঠায় না। এসব বিষয় মোটেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের বিষয় নয়। এতে সমাজের অনেক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সংক্রান্ত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা এবং এ সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান করার বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা জারি করার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাদেশিক পরিষদ। সাংবিধানিকভাবে কানাডার শহরগুলো প্রদেশের সৃষ্টি হলেও এখন নগরবাসীর নিরাপত্তার বিবেচনায় প্রাদেশিক কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। নগরবাসীর নিরাপত্তার খাতিরে আদালতগুলো নগরকে বাই-ল’ প্রণয়নের ক্ষমতা দিতে তৎপর হচ্ছে।
ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানী লুইন গোল্ডরিং এর মতে, সমগ্র কানাডায় অবৈধ বসবাসকারীর সংখ্যা কুড়ি হাজার থেকে দুই লক্ষ হতে পারে।
স্টেটাসবিহীন লোকদের জন্য অন্যান্য নগরী থেকে টরন্টো বেশ উদার। এখানে অবৈধ বসবাসকারীরা চিকিৎসা সেবা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকাসহ বিভিন্ন সুযোগ লাভকরে থাকেন। তবে বিপুলসংখ্যক অবৈধ নগরবাসীদের সেবা প্রদান করা টরন্টো নগর কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ব্যয়বহুল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বেআইনী বসবাসকারীদের। লিগ্যাল স্ট্যাটাস ছাড়া নিয়মিত আয়ের সংস্থান করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এদিকে তারা সামাজিক ভাতার জন্যও আবেদন করতে পারে না।
সোশাল সার্ভিস মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়েলফেয়ার আবেদনকারীদের অন্টারিওতে স্ট্যাটাস প্রমাণ করতে হয়। কোনো স্ট্যাটাসবিহীন নাগরিক ওয়েলফেয়ারের জন্য যোগ্য নয়। অন্টারিও প্রাদেশিক অ্যাক্ট অনুযায়ী, নগর কর্তৃপক্ষকে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের স্ট্যাটাস অনুসন্ধান করতে হয়। পরিবারের একজন সদস্যও যদি অবৈধ হয় তবে পুরো পরিবারটি সোশাল বা হাউজিং এর জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
এদিকে স্ট্যটাসবিহীন বসবাসকারীদের সন্তানদের নিয়েও বেশ ঝামেলার খবর পাওয়া যায়। জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্কুলগুলোতে প্রায়ই বৈষম্যমূলক ঘটনা ঘটে।
অন্টারিও প্রদেশের শিক্ষা বিষয়ক অ্যাক্টেও ৪৯.১ ধারা অনুযায়ী এখানকার স্কুলগুলোতে অবৈধ বসবাসকারী পিতা-মাতার সন্তানদের ভর্তি করতে বাধ্য। কিন্তু মাঝে মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ভর্তি করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
ফেডারেল ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি অ্যাক্ট-এর ৩০ নম্বর ধারা অনুযায়ী বেআইনিভাবে বসবাসরত পিতামাতার সন্তানদের ভর্তি করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের অস্বীকার করার কোনো অধিকার নেই। অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ এই আইনগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন যার ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। জানা গেছে, গত বছর প্রায় ১০০টি শিশুর ভর্তির আবেদন এভাবে নাকচ করা হয়। পরে মানবাধিকার সংগঠন এবং লিগ্যাল ক্লিনিকগুলোর হস্তক্ষেপে ঐসব শিশু ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করে।
কানাডার নারী অধিকার প্রবক্তাদের উদ্বেগ নিয়েও বিভিন্ন মহল একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী মহিলারা স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হয়েও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হন না। তারা ডিপোর্টেশনের ভয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হতে চান না। নারী অধিকার সংস্থা ‘নেলী’র মহাপরিচালক সিত্তি কাওয়ান বলেন, অবৈধ বসবাসকারী যে সব মহিলারা নির্যাতনের শিকার হন তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন যদি টরন্টো সিটি কর্পোরেশন এমন একটি আইন তৈরি করে যেখানে পুলিশ অভিযোগকারিণীর কোনো স্ট্যটাস নিয়ে প্রশ্ন করবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে নারীদের প্রতি অত্যাচার বহুলাংশে কমে যাবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইভেসি আইনের দ্বারাই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিতান্তই তারা ব্যক্তিগত তথ্য। নগরীর সেবা প্রদানের জন্য এই তথ্যের অনুসন্ধান করার কোনো যৌক্তিকতা এবং কোনো আবশ্যকতা নেই।
কানাডা সবসময় মানবতার পক্ষে। দেশটি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পরিচিত নয়, এটি মানবতার দেশ। কানাডিয় নাগরিকরা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে। তারা শরণার্থীদের সাহায্য করতে সবসময় এগিয়ে আসে। চার্চ, মানবাধিকার সংস্থা এবং নাগরিক সমাজ সবসময় চেষ্টা করে যেন কেউ অবিচারের শিকার না হয়।
শরণার্থীদের জন্য কানাডা সত্যিই একটি আশার আলো। যদিও অভিবাসন নীতিতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শরণার্থীদের সুরক্ষা দিতে কানাডার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ কানাডাকে মানবতার দেশ হিসেবে জানে এবং এই দেশটি তাদের ভালোবাসা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে থাকবে।
টরন্টো, ৯ আগস্ট ২০০৪









