বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রাসঙ্গিক: রাষ্ট্রপতি

ঢাকা, ২৬ আগস্ট – রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিদায় হজের ভাষণ বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই ভাষণে বর্ণিত মানব মর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং ন্যায়বিচারের শিক্ষা আজও আমাদের সঠিক পথের দিশা দেয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া হিংসা, বৈষম্য এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির জন্য রাসুলের (সা.) আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভেদ বা প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না। অতীতের কোনো অন্যায় বা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে ধর্মের মূলবাণী ধারণ করে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে মহানবীর (সা.) জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে নবী কারিম (সা.) যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আমাদের জাতীয় জীবনেও অনুসরণ করা উচিত। তিনি একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমমর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করবে।
দেশের ইসলামী সংস্কৃতির উন্নয়নে পূর্ববর্তী অবদানগুলোর কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে ইতোমধ্যে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদেরও মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়কে এই ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবশেষে রাষ্ট্রপতি ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব।
এস এম/ ২৬ আগস্ট ২০২৬









