সম্পাদকের পাতা

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধে মাথা উঁচু করে কানাডা

নজরুল মিন্টো

দুই শতাব্দীরও বেশি আগে নায়াগ্রা নদীর তীরে যে ভূখণ্ড আজ কানাডা, সেখানে সামরিক শক্তি দিয়ে নিজেদের ইচ্ছা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাস সেই অভিযানের পরিণতি লিখেছে অন্যভাবে। দুইশ বছরেরও বেশি সময় পর যুদ্ধের অস্ত্র বদলেছে। সৈন্য আর কামানের জায়গায় এসেছে শুল্ক, বাজার এবং অর্থনৈতিক চাপ। কিন্তু প্রশ্নটি অনেকটাই একই রয়ে গেছে: যুক্তরাষ্ট্র কি তার শক্তির জোরে কানাডার সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে, নাকি কানাডা নিজের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের পথ নিজেই ঠিক করবে? গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নের একটি শক্ত উত্তর দিয়েছে। কানাডা মাথা নোয়ায়নি।

বেশ কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল কানাডা। শুক্রবার সন্ধ্যাতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে চুক্তি এগোচ্ছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত সামনে আনে, যেগুলো কানাডার কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আলোচক দলকে ওয়াশিংটন থেকে ফিরিয়ে আনেন। কার্নির বার্তা ছিল পরিষ্কার, চুক্তি হবে পারস্পরিক স্বার্থে, কিন্তু কানাডার জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

শেষ মুহূর্তের বিরোধের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ ছিল অটো খাত। যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় তৈরি কিছু ট্রাককে সম্ভাব্য শুল্কছাড়ের বাইরে রাখতে চেয়েছিল। এতে ওকভিলের Ford এবং অসোয়ার General Motors-এর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কানাডা এমন কোনো চুক্তি মেনে নেয়নি, যা তার গুরুত্বপূর্ণ অটো শিল্পকে দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সমঝোতার মাধ্যমে কৌশলে এমন কিছু শর্ত রাখতে চেয়েছিল, যাতে কানাডা কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়বে, সেই সিদ্ধান্তেও ওয়াশিংটনের ভূমিকা থাকে। বিষয়টি তাই শুধু বাণিজ্যের নয়, কানাডার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারেরও। কার্নি বিষয়টিকে সরাসরি একটি “power play” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কানাডার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ছিল প্রবল। প্রতিরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অর্থনীতিতে critical minerals এখন অত্যন্ত মূল্যবান কৌশলগত সম্পদ। আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজে বিশেষ অগ্রাধিকার চেয়েছিল। কিন্তু কার্নি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কানাডা তার গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ দেবে না। সহযোগিতা হবে, তবে তা হবে কানাডার জাতীয় স্বার্থ এবং অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারত্ব বজায় রেখেই।

চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে। জবাবে কানাডা ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ডলার-ফর-ডলার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও পেপার এবং ইলেকট্রনিকসসহ নির্বাচিত মার্কিন পণ্য এর আওতায় আসবে। অটোয়া জানিয়েছে, পাল্টা ব্যবস্থাটি এমনভাবে সাজানো হবে যাতে কানাডীয় শ্রমিক, ব্যবসা ও শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।

কিন্তু এই বাণিজ্যযুদ্ধের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলোর একটি এখন দেখা যাচ্ছে সীমান্তের দক্ষিণে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই আপত্তি বাড়ছে। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার সতর্ক করেছেন, শুল্ক ব্যবসার খরচ বাড়াচ্ছে এবং কোম্পানিগুলোকে কর্মী কমানো অথবা বাড়তি খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মিশিগান সরকারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শুল্কের কারণে খাদ্য, নির্মাণ ও পরিবহন খরচ বেড়েছে এবং কানাডায় অঙ্গরাজ্যটির রপ্তানিও কমেছে। মিশিগান সরকারের ভাষাতেই কানাডা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার।

এ উদ্বেগ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কানাডার সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেছেন, কানাডার সঙ্গে বারবার বদলে যাওয়া বাণিজ্য পরিস্থিতি ব্যবসার খরচ, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। মেইন কানাডা থেকে পেট্রোলিয়াম বাদেই বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। কলিন্সের মতে, শুল্কের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত ব্যবসাগুলোকে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে হবে। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বাণিজ্যযুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গারও বলেছেন, কানাডা তাঁর অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার এবং নতুন শুল্ক সাধারণ মানুষের খরচ বাড়াবে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম আরও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে আসলে কী অর্জন করতে চাইছে। অর্থাৎ কানাডাকে চাপ দেওয়ার নীতির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের Trade Representative-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও সেবার মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ৮৭২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় ৩৩৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য এবং ৯২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সেবা বিক্রি করেছে। অর্থাৎ এক বছরেই কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্য ও সেবা বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৪২৬ বিলিয়ন ডলার। কানাডা তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পণ্য সরবরাহ করে না, মার্কিন ব্যবসার জন্যও একটি বিশাল বাজার।

জ্বালানির ক্ষেত্রে কানাডার গুরুত্ব আরও পরিষ্কার। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে কানাডা থেকে। আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় শতভাগ এবং Natural Gas Liquids-এর ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশের উৎস ছিল কানাডা। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা বিদ্যুতের ৮১ দশমিক ৩ শতাংশও সরবরাহ করেছে কানাডা। দুই দেশের মধ্যে ৮৬টি আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ফলে কানাডার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে তার প্রভাব শুধু সীমান্তের উত্তরে আটকে থাকে না, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহব্যবস্থা, শিল্প ও উৎপাদন খরচেও পৌঁছে যায়।

এই বাস্তবতায় ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কৌশল গতি হারাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিঃসন্দেহে বিশাল। কিন্তু আধুনিক অর্থনীতির শক্তি শুধু বাজারের আকারে নির্ধারিত হয় না। জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কাঁচামাল, দক্ষ জনশক্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো এবং বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে প্রবেশাধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রেই কানাডার হাতে বিশাল সম্পদ রয়েছে।

আর কানাডা এখন সেই সম্পদকে আরও পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর পথে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ শুরু হওয়ার পর নয়, তারও আগে থেকেই অটোয়া দেশের ভেতরের বাণিজ্য বাধা কমানো, বড় জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং রপ্তানি বাজার বহুমুখী করার কাজ শুরু করেছে। কার্নির সরকার বলছে, গত এক বছরে পাঁচ মহাদেশে ২০টির বেশি বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি হয়েছে। কানাডীয় ব্যবসা বর্তমানে বিভিন্ন মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় দেড় বিলিয়ন ভোক্তার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রপ্তানি আরও বাড়ানো এখন জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই পরিবর্তনের একটি বাস্তব উদাহরণ British Columbia-র Kitimat। LNG Canada-এর মাধ্যমে সেখান থেকে ২০২৫ সালেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি পূর্ব এশিয়ার বাজারে পাঠানো শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন কানাডীয় জ্বালানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে নতুন বাজারে সরাসরি পৌঁছানোর অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে কানাডার নতুন অংশীদারত্বও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজারকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা কানাডাকে নতুন বাজার, নতুন অংশীদার এবং নতুন সরবরাহপথ তৈরির উদ্যোগ আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে বাধ্য করছে। যে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ নিয়ে কানাডায় বহু বছর ধরে আলোচনা হয়েছে, বর্তমান বাণিজ্যযুদ্ধ সেটিকে এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

কানাডার রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ফেডারেল সরকার, প্রাদেশিক ও টেরিটোরিয়াল নেতৃত্ব, শ্রমিক সংগঠন এবং ব্যবসায়ী মহলের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। শনিবার কার্নির সঙ্গে First Ministers’ Meeting-এ প্রিমিয়াররাও ‘Team Canada’ কৌশল অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধা কমানো, বড় অবকাঠামো প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং রপ্তানি বাজার বহুমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই ঐক্যের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ বাণিজ্যযুদ্ধে শুল্কের হার যত গুরুত্বপূর্ণ, একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ধরে রাখার ক্ষমতাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন যদি ধরে নিয়ে থাকে যে বাড়তি চাপ কানাডাকে দ্রুত ছাড় দিতে বাধ্য করবে, তাহলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সেই ধারণার সঙ্গে মিলছে না। বরং চাপ যত বেড়েছে, কানাডার ভেতরে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ঐকমত্য তত স্পষ্ট হয়েছে।

এর মধ্যেই রবিবার ভোরে ট্রাম্প আবারও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘State’ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, কানাডা অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের সুবিধা চায়। গত এক বছরে তিনি একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হওয়ার কথা বলেছেন এবং ‘economic force’ ব্যবহারের কথাও তুলেছেন। চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর তাঁর এই মন্তব্য কানাডার প্রতি আগের সেই আগ্রাসী মনোভাবকেই আবার স্পষ্ট করেছে।

বাস্তবতা হলো, কানাডা একটি স্বাধীন G7 রাষ্ট্র, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভূখণ্ডের অধিকারী, বিপুল জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত বাণিজ্যসম্পর্ক থাকা একটি দেশ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও কানাডা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

ভূগোল বদলাবে না, ইতিহাসও মুছে যাবে না। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কিন্তু সেই সম্পর্ক আর আগের মতো ধরে নেওয়া সম্পর্ক হয়ে থাকবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অটোয়ার সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে, ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।

দুই শতাব্দী আগে যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করে কানাডার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চেষ্টায় সফল হয়নি। আজও হবে না। ৫০ শতাংশ শুল্ক হয়তো আজকের বড় শিরোনাম। কিন্তু ইতিহাসে আরও বড় হয়ে থাকবে সেই মুহূর্ত, যখন চাপ ও হুমকি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডা।

তথ্যসূত্র:
Toronto Star
The Globe and Mail


Back to top button
🌐 Read in Your Language