মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় নেতৃত্ব সংকট: শীর্ষ জেনারেলদের সরিয়ে বিপাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ওয়াশিংটন, ২৬ আগস্ট – ইরানের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের জেনারেলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। গত এপ্রিল মাসে মাত্র ১৫ সেকেন্ডের এক ফোনালাপে জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার পর থেকে সেনাপ্রধানের পদটি এখন পর্যন্ত শূন্য পড়ে আছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল জর্জের সম্ভাব্য তিন উত্তরসূরিসহ মোট ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুত নতুন কাউকে নিয়োগের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখন তাদের অগ্রাধিকার। এর পাশাপাশি ইরান ও রাশিয়ার অত্যাধুনিক ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীতে চার তারকা জেনারেলের সংখ্যা ১০ থেকে কমে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন যুদ্ধের প্রস্তুতি ও ইউক্রেন পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়োজিত সেনাসচিব ড্যানিয়েল পি ড্রিসকলও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনাকারী কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড এম হোডন এবং সহকারী সেনাপ্রধান জেনারেল জেমস মিঙ্গাসকেও সরিয়ে দিয়েছেন।
মিঙ্গাসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন হেগসেথের সাবেক সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস্টোফার লেনেভ। বর্তমানে লেনেভ একাই সেনাপ্রধান ও সহকারী সেনাপ্রধান উভয় পদের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান সিনেটর জনি আর্নস্ট সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন যে প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও শৃঙ্খলার অভাবের চরম মূল্য দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্যাট রায়ান মনে করেন যুদ্ধের এই সংকটকালে অভিজ্ঞ নেতাদের সরিয়ে দেওয়া মানে সেনাদের নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দেওয়া এবং জয়ের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করা।
এস এম/ ২৬ আগস্ট ২০২৬









