মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূতাবাসে কূটনীতিকদের ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ২৬ আগস্ট – মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের পুনরায় কর্মস্থলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা শঙ্কায় এসব কর্মীদের আগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। গণমাধ্যম দ্য টাইমসের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথির তথ্যানুসারে, চলতি সপ্তাহ থেকেই এই কর্মীদের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরানে হামলার পূর্বপ্রস্তুতি এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও রকেট হামলার আশঙ্কায় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ওমান, ইরাক ও কুয়েতসহ মোট আটটি দেশে কূটনীতিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম লেবাননের বৈরুত দূতাবাসে কর্মীদের পাঠানো হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ইসরায়েল, জর্ডান ও ওমানে পূর্ণ সংখ্যক কর্মী ফিরবেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। অন্যদিকে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনের দূতাবাসগুলোতে ৭৫ শতাংশ কর্মী ফিরে যাবেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে উপসাগরীয় ছয়টি দেশ এবং লেবাননে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার ওপর এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা নিয়মিতভাবে বিশ্বজুড়ে তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে থাকে। সর্বশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই মধ্যপ্রাচ্যের মিশনগুলোতে কর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সমন্বয় করা হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যান শাপিরো মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসন যুদ্ধের সমাপ্তির বার্তা দিতে চাইছে। তবে জন আর. বাসের মতে, পরিবারের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো সেখানে ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। অন্যদিকে রবার্ট ড্যানিন সতর্ক করে বলেছেন, কর্মী ফেরানোর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে না।
এস এম/ ২৬ আগস্ট ২০২৬









