চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে থিমভিত্তিক দুর্গাপূজার মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়

দুর্গাপূজার মণ্ডপ

চট্রগ্রাম,২০ অক্টোবর-চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে থিমভিত্তিক পূজামণ্ডপগুলো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। নগরীর বেশ কয়েকটি মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে ভিন্নধর্মী থিমে। এসব মণ্ডপের শিল্পকর্ম দর্শনার্থী ও শিল্পবোদ্ধাদের প্রশংসা পাচ্ছে। কোনো কোনো মণ্ডপ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসিত হচ্ছে। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এসব মণ্ডপ। আলোকসজ্জা, ভাস্কর্য, স্কেচসহ বিভিন্ন ধরনের কারুকাজের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমাজের নানা অসংগতি। এর মধ্য দিয়ে সমাজের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।

নগরীর উত্তর কাট্টলীর শ্রীশ্রী সেবাখোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরের পূজামণ্ডপের থিম ‘রিপু রজনী’। থিম ও শিল্পকর্মের কারণে মণ্ডপটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। মানুষের ভেতরের ষড়রিপু এবং সেগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে এই থিম তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে দেবীদর্শনের মাধ্যমে মানুষ নিজের অন্তর্জগতের অন্ধকার ও ভেতরের রিপুগুলোর মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। এখানে আলোর ব্যতিক্রমী ব্যবহার দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা যেন মানুষের মনের অন্ধকার দূর করতে মর্ত্যে এসেছেন, এমন ভাবনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপটিতে। অপটিমিস্টিক দে’র পরিকল্পনা এবং নিলয় নন্দীর অলংকরণ ও আলোকসজ্জায় মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে। প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী কার্তিক পাল।

মণ্ডপটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। তাঁদের ভিড় সামলাতে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক থেকে দুই ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর দর্শনার্থীরা ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় সারা রাত মণ্ডপ খোলা রাখা হলেও দর্শনার্থীদের ভিড় কমছে না। ভারতের কলকাতাতেও মণ্ডপটি বেশ আলোচনায় রয়েছে। সেখান থেকেও অনেকে এটি দেখতে আসছেন।

সেবাখোলা ও বৈকুণ্ঠধাম পূজা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা জুয়েল শীল বলেন, কয়েক দিন আগে কলকাতা থেকে কয়েকজন মণ্ডপটি দেখতে এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এত সুন্দর আলোকসজ্জা ও বৈচিত্র্য আগে দেখেননি।

নগরীর পতেঙ্গার কাঠগড় এলাকার হিন্দুপাড়া শ্মশান শিব ও কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ নিয়েও দর্শনার্থীদের আগ্রহ রয়েছে। ‘যুগান্তরের বার্তাবহন’ থিমে সাজানো এই মণ্ডপে সংবাদমাধ্যমের বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। কবুতরের ডানায় সংবাদ বহন থেকে শুরু করে ঢোল পিটিয়ে সংবাদ প্রচার, পরে সংবাদপত্রের প্রচলন, সময়ের সঙ্গে রেডিও ও টেলিভিশনের আবির্ভাব এবং অনলাইন যুগে প্রবেশের বিষয়গুলো বিভিন্ন শিল্পকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদ পরিবহনের পেছনে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদেরও তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপের ঠিক মাঝখানে সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি সংবাদপত্র পৌঁছে দেওয়া এক হকারের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে এবারের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্য থেকে পাঁচটি মণ্ডপকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করেছে শারদ সম্মাননা পর্ষদ। নির্বাচিত মণ্ডপগুলো হলো—গোসাইলডাঙ্গা সর্বজনীন শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির (থিম: ‘ভাড়’), বৈশাখী সংঘ, উত্তর কাট্টলী জ্বালাকুমারী বাড়ি (থিম: ‘জল দুয়ার’), খলিফাপট্টি সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: ‘রক্তাঞ্জলি’), পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের হিন্দুপাড়া শ্মশান শিব ও কালী মন্দির (থিম: ‘যুগান্তরের বার্তাবহন’) এবং দক্ষিণ নালাপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: ‘আত্মকথন’)।

এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language