ফুটবল

ফিফা সভাপতি পদে আবারও জিততে এশিয়ার ফুটবল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইনফান্তিনো

ইনফান্তিনো

টোকিও, ২০ অক্টোবর-ফিফা সভাপতি হিসেবে আবারও নির্বাচিত হওয়ার প্রচারণার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে জাপান সফরে যাচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সফরে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার ৩৭ সদস্যের নির্বাহী পরিষদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর নিজের ‘ভুলের’ জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন এবং তাঁরা ফিফার প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার অংশ।

টোকিওর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এশিয়ার ফুটবল নেতাদের সঙ্গে ইনফান্তিনোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা শুরুতে ইনফান্তিনো এবং বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য আলাদা একটি সহযোগী সংস্থা গঠনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি হয়তো ইনফান্তিনোর কিছুটা কাছাকাছি এসেছেন।

সমালোচকদের উদ্দেশে ইনফান্তিনো ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাব অনুযায়ী, আগামী মার্চে চতুর্থ মেয়াদে আবারও নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বেশ কাছাকাছি রয়েছেন তিনি। ফিফার ২১১টি সদস্য ফেডারেশনের মধ্যে এশিয়ার কয়েকটি ফেডারেশনের ভোটও তাঁর পক্ষে যেতে পারে।

বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এএফসিও ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেছিল। তবে সংস্থাটির সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে ঐক্যের অভাব স্পষ্ট। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতার ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান তাঁর বিরোধিতা করার কথা ঘোষণা করেছে। ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠক আগামী ১৬ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার ২১১টি সদস্য ফেডারেশনের মধ্যে ৮৭টি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। কেউ সরাসরি মন্তব্য করে সমর্থন জানিয়েছে, আবার কেউ নিজ নিজ আঞ্চলিক কনফেডারেশনের সমর্থনসূচক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর প্রতি অবস্থান জানিয়েছে। ইনফান্তিনোর বিরোধিতাকারীদের সবচেয়ে বড় অংশ ইউরোপের। ১৯৭৪ সালের পর থেকে ফিফার কোনো ক্ষমতাসীন সভাপতি নির্বাচনে পরাজিত হননি। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন পাওয়ার আগে গত পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত দুই বছর ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলে সক্রিয় ভূমিকা’ পালন করতে হবে। খেলোয়াড় হিসেবে অথবা ফিফা, কোনো কনফেডারেশন কিংবা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন এর অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার মধ্যে অন্তত পাঁচটি সংস্থার কাছ থেকে সমর্থনসূচক ঘোষণা সংগ্রহ করতে হবে।

প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাবেক পেশাদার ফুটবলার জুলস বয়কফ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ফিফা পৃষ্ঠপোষকতার একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। সংস্থাটি পুরুষদের বিশ্বকাপ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে এবং আনুগত্যের বিনিময়ে সেই অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বিতরণ করে।

বয়কফ আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফুটবল সংস্থাকে ফিফা যে অর্থ দেয়, তা মূলত ফুটবলের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়। তবে এই অর্থের ব্যবহার তদারকির ব্যবস্থা খুবই সীমিত। তাঁর মতে, ফিফার কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language