এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর: ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি ইস্যুতে সোমবার থেকে অনশনে শ্রমিকরা

চট্টগ্রাম, ১১ অক্টোবর – চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ (DP World)-কে দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে এবার চরম আন্দোলনে নামছেন বন্দর শ্রমিকরা। পূর্বঘোষিত সময়সীমার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম এই কনসেশন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
কেন এই ইজারার তীব্র বিরোধিতা?
আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক ও সুরক্ষার দিক থেকে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁদের মূল আপত্তিগুলো হলো:
দেশীয় সক্ষমতা ও রাজস্ব ক্ষতি: সম্পূর্ণ নিজস্ব ও লাভজনকভাবে পরিচালিত এই টার্মিনাল বিদেশি সংস্থাকে দিলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাবে এবং সরকারের রাজস্ব কমবে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকি: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যান্য দাবি: আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বন্দরের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ এবং এই বিতর্কিত ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানো হচ্ছে।
দীর্ঘ লড়াই ও ধারাবাহিক আন্দোলনের চিত্রপট
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকবার স্থবির হলেও সম্প্রতি পুনরায় গতি পায়। আন্দোলনের ইতিহাস এক নজরে:
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ব্যাপক শ্রমিক আন্দোলনের মুখে প্রথম দফায় ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
৪ জুন ২০২৫: বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।
১ অক্টোবর ২০২৬: অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়।
৮ অক্টোবর ২০২৬: সকল প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে ১৫ বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন জানান, ইজারা বাতিলের দাবিতে রোববার বিকেল পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় সোমবার সকাল থেকেই অনির্দিষ্টকালের কঠোর বার্তার অংশ হিসেবে এই অনশন কর্মসূচি পালিত হবে এবং অনশনস্থল থেকেই পরবর্তী চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এনএন/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







