আপত্তির মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি

চট্রগ্রাম, ০৮ অক্টোবর-বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ও বিরোধিতার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে আগারগাঁওয়ের ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে এই চুক্তি সই করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে কোম্পানির চেয়ারম্যান ইসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড অব ডিরেক্টর ইসা কাজিম, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অন্যরা।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলার মধ্যেই এই চুক্তি সই হলো। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিও এই টার্মিনালে রয়েছে। বন্দরের কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় টার্মিনালের মালিকানা ও মূল অবকাঠামো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদে টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটি।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ আরও জানিয়েছে, এনসিটি কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি বা পুরোপুরি হস্তান্তর করা হচ্ছে না। টার্মিনালের জমি, মূল অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের কাছেই থাকবে। নিরাপত্তা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন এবং সার্বভৌম কর্তৃত্বও বাংলাদেশের হাতেই থাকবে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এই কনসেশন দেওয়ার জন্য সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে তারা ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উৎপাদন অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে এবং দেশের এই উন্নয়নে সহযোগিতা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক বন্দর, লজিস্টিক অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে আরও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ তৈরি হবে। পরিচালনাগত দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং পণ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেবা দেওয়ার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের ব্যবসাগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করতে চায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই চুক্তির ফলে টার্মিনালের পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়বে, লজিস্টিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। দেশীয় শিল্পকে সহায়তা এবং আরও দক্ষ বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই অংশীদারত্ব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনা করাই তাদের লক্ষ্য। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করা সেই লক্ষ্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এদিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। এ নিয়ে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে।
চুক্তির বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থান নেন কয়েকটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এস এম/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬







