এশিয়া

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতা, তাইওয়ানের সঙ্গেও উত্তেজনা

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

বেইজিং,২০ অক্টোবর-বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে অনুমতি ছাড়া একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ করেছে চীন। এ অভিযোগের পর ওই এলাকায় দ্রুত নিজেদের নৌবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে দেশটি। চীনের সামরিক বাহিনীর দাবি, দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ সাবিনা শোয়াল প্রবালদ্বীপের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস চার্লসটন’ অবৈধভাবে প্রবেশ করায় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। একই দিনে ওই এলাকার আরও উত্তরে তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজের প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাদানুবাদ শুরু হয়।

মঙ্গলবার ভোরে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোয়ালের কাছের জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির উপস্থিতি শনাক্ত করে চীনের সামরিক বাহিনীর নর্দার্ন ও সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড। চীনের সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়াই ‘ইউএসএস চার্লসটন’ সেখানে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে। চীনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের মারাত্মক ক্ষতি করেছে, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য নিজেদের শক্তিশালী নৌবহর ও সেনাদল মোতায়েন করেছে চীন।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযানকে সাধারণত ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ বা মুক্ত নৌচলাচল অভিযান বলে থাকে মার্কিন নৌবাহিনী। এ বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি চীন সরকারের কোনো ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেনি। ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীর মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইন মেনে যাতায়াত ও চলাচলের জন্য কোনো দেশের আগাম অনুমতি নেওয়ার অধিকার বা কর্তৃত্ব কারও নেই। সাবিনা শোয়ালসহ পুরো স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায় এ অঞ্চলের যেকোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মাত্র এক মাস আগেও একই এলাকায় একটি ফিলিপাইনি জ্বালানিবাহী নৌযানকে লক্ষ্য করে চীনের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছিল।

অন্যদিকে, একই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলে তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাইওয়ানের কোস্টগার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, একটি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ তাদের নিয়ন্ত্রিত বা বিতর্কিত জলসীমায় অনধিকার প্রবেশ করেছে। চীনা জাহাজটিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে তাইওয়ানের ‘তাইচুং’ নামের একটি কোস্টগার্ড জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এরপর রেডিও বার্তার মাধ্যমে দুই পক্ষ একে অপরকে মৌখিক সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে।

ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের রেডিও বার্তায় তাইওয়ানের পরিচয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। চীনা জাহাজটি রেডিও বার্তায় দাবি করে, বিশ্ব মানচিত্রে তথাকথিত ‘রিপাবলিক অব চায়না’ বা তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নামের কোনো অস্তিত্ব নেই। এর জবাবে তাইওয়ানের জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘রিপাবলিক অব চায়না, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম এবং পুরোপুরি স্বাধীন রাষ্ট্র।’ তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রে দুই দেশের জাহাজের মধ্যে এ উত্তপ্ত মুখোমুখি অবস্থান দীর্ঘ সময় ধরে চলে। এ বিষয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত সপ্তাহে প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনের একটি মাছ ধরার নৌকায় তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জলকামান ব্যবহার করেছিল। ওই ঘটনার পর এর পরিণতি তাইওয়ানকে ভোগ করতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল চীন।

এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language