আফ্রিকা

উগান্ডায় শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ, নিহত ২৪: গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

কাম্পালা, ১১ এপ্রিল – উগান্ডার কিবালে ন্যাশনাল পার্কে বসবাসকারী বিশ্বের বৃহত্তম বন্য শিম্পাঞ্জি দলের আচরণ নিয়ে একটি নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করা এই দলটি গত আট বছর ধরে নিজেদের মধ্যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের নৃতত্ত্ববিদ অ্যারন স্যান্ডেলের নেতৃত্বে এনগোগো শিম্পাঞ্জি প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই শিম্পাঞ্জি দলের মধ্যে অন্তত ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭টি শিশু শিম্পাঞ্জি রয়েছে। একসময় প্রায় ২০০ সদস্যের এই দলটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতাপূর্ণ ছিল। তারা একত্রে চলাফেরা করত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখত। কিন্তু বর্তমানে দলটি ওয়েস্টার্ন এবং সেন্ট্রাল নামক দুটি বিরোধী উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০১৫ সালের দিকে প্রথম এই দলে বড় ধরনের বিভাজনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ওই সময় একদল অন্য দলকে তাড়া করতে শুরু করে এবং পরবর্তীকালে তারা একে অপরকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে থাকে।

কালক্রমে তাদের মুখোমুখি অবস্থানগুলো তীব্র সহিংস রূপ ধারণ করে। ২০১৮ সালে দুটি দলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত হওয়ার পর ওয়েস্টার্ন গোষ্ঠীর সদস্যরা সেন্ট্রাল দলের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাতে শুরু করে। এসব প্রাণঘাতী ঘটনায় অন্তত সাতটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং ১৭টি শিশু শিম্পাঞ্জি প্রাণ হারায়। তবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। এই অপ্রত্যাশিত সহিংসতার পেছনে গবেষকরা বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন।

২০১৪ সালে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক শিম্পাঞ্জির রহস্যজনক মৃত্যুর ফলে দলটির সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর ২০১৫ সালে নেতৃত্বে পরিবর্তনের কারণে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়। এর পাশাপাশি ২০১৭ সালে শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৫টি শিম্পাঞ্জির মৃত্যু দলটির অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, শিম্পাঞ্জিদের এই সংঘাত মানব সমাজের প্রাচীন সংঘাতের ধরন বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে।

ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শ ছাড়াও কেবল গোষ্ঠীগত সম্পর্কের অবনতি কীভাবে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে, এটি তারই একটি দৃষ্টান্ত। জার্মান প্রাইমেট সেন্টারের গবেষক জেমস ব্রুকস জানিয়েছেন, এই ঘটনা মানব সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। অন্যান্য প্রজাতির আচরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বিভাজনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language