আইন-আদালত

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মেজর সাজ্জাদুলের চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

ঢাকা, ২৬ জুলাই – সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য প্রদান করেছেন মেজর (অব.) খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম। রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এ সময় প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী সাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জবানবন্দিতে সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে সরকারি আদেশে তাকে র‌্যাবে বদলি করা হয় এবং ১১ জুলাই তিনি র‌্যাব-৩-এ পদায়ন পান। সে সময় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান। যোগদানের দিনই তাকে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে একটি বিশেষ অভিযানে অংশ নিতে হয়। রাতে সাদা পোশাকে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি একটি নির্জন এলাকায় যান। সেখানে আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি ব্রিজের ওপর গাড়ি থামিয়ে চোখ ও হাত বাঁধা এক বন্দিকে নামানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান ওই ব্যক্তিকে সেতুর রেলিংয়ের কাছে নিয়ে মাথায় গুলি করেন এবং মরদেহ নিচে ফেলে দেন।

ঘটনাটি দেখে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং পরবর্তী একটি অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে জিয়াউল আহসান তাকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেন।

সাজ্জাদুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান যে, নির্দেশ অমান্য করার কারণে তাকে ভুয়া এনকাউন্টারে হত্যা বা চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অভিযানের পরদিন ১২ জুলাই কোনো নিয়ম অনুসরণ না করেই তাকে তড়িঘড়ি করে র‌্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয় এবং কুমিল্লা সেনানিবাসে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সাক্ষী আরও দাবি করেন যে, এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে তাকে অবাধ্য কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে আর কোনো পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে নির্ধারিত সময়ের ১২ বছর আগেই তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নিতে বাধ্য হন।

এনএন/ ২৬ জুলাই ২০২৬


Back to top button