দক্ষিণ এশিয়া

বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি দম্পতিকে পেটালেন ভারতীয় চিকিৎসক: নাগেন্দ্র গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত!

বেঙ্গালুরু, ২৬ জুলাই – ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি এক দম্পতির ওপর চরম বর্বরতার ঘটনা ঘটেছে। নাগরিকত্ব ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে স্থানীয় এক চিকিৎসকের হাতে বেদম প্রহার ও মারধরের শিকার হয়েছেন তাঁরা।

ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় ‘সাই ক্লিনিক’-এর চিকিৎসক ড. নাগেন্দ্রকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে আদালতে হাজির করা হলে তিনি দ্রুতই জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের প্রভাবশালী একটি সংবাদমাধ্যমের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জনসমক্ষে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ডসংলগ্ন বেত্তাদাসাপুরা এলাকায় বসবাসকারী ২৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী নাসরিনা বিলাল ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বিলাল এই হামলায় গুরুতর আহত হন।

ভুক্তভোগী নাসরিনা বিলালের দেওয়া মামলার এজাহার অনুযায়ী:

জাতীয়তা নিয়ে গালিগালাজ: সকালে রাস্তায় দেখা মাত্রই ডা. নাগেন্দ্র কোনো উসকানি ছাড়াই দম্পতির গতিপথ রোধ করে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং হিন্দিতে চরম আপত্তিকর ও অশালীন গালিগালাজ শুরু করেন।

টেনেহিঁচড়ে মারধর: একপর্যায়ে ড. নাগেন্দ্র নাসরিনাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করেন।

মাটিতে ফেলে লাথি: স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী মোহাম্মদ বিলাল এগিয়ে এলে ওই চিকিৎসক তাঁর মাথা ও পিঠে পরপর মারাত্মক আঘাত করেন এবং মাটিতে ফেলে বুক ও পেটে সজোরে লাথি মারতে থাকেন।

হত্যার হুমকি: এ কথা পুলিশ বা কাউকে জানালে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের অজুহাত ও পুলিশের কড়া অবস্থান

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ড. নাগেন্দ্র দাবি করেন, ওই এলাকায় নাকি অবৈধ বিদেশিরা বসবাস করছে এবং সেই সন্দেহ থেকেই তিনি বিলাল ও তাঁর স্ত্রীকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ মনে করে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তবে বেঙ্গালুরু পুলিশ কর্মকর্তা ওই চিকিৎসকের বক্তব্য নাকচ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “কারো নাগরিকত্ব বা অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশকে জানাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে না কিংবা কারও ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে পারে না।”

মামলার বর্তমান অবস্থা

ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করার পর আহত বাংলাদেশি দম্পতির আইনি কাগজপত্র, ভিসা ও ভারতে প্রবেশের অভিবাসন অবস্থা যাচাই করছে স্থানীয় পুলিশ। একই সাথে, কোনো উসকানি ছাড়া প্রকাশ্য রাস্তায় দম্পতির ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির বিচারিক তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এনএন/ ২৬ জুলাই ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language