ইউরোপ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, রাজস্ব বাড়ছে রাশিয়ার

মস্কো, ৯ এপ্রিল – গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালায়। শুধুমাত্র ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতেও ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এই সংঘাতের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এই প্রাণঘাতী যুদ্ধ এবং তার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব প্রায় দ্বিগুণ হতে চলেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এই পথটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি প্রবাহের অন্যতম প্রধান রুট। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের অনেক ওপরে উঠে যায়।

প্রাথমিক উৎপাদন তথ্য এবং তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, তেল উত্তোলনের ওপর রাশিয়ার খনিজ নিষ্কাশন কর বা মিনারেল এক্সট্রাকশন ট্যাক্স এপ্রিল মাসে বেড়ে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন রুবলে পৌঁছাবে। মার্কিন মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চ মাসে ছিল মাত্র ৩২৭ বিলিয়ন রুবল। এই হিসাবটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ার জন্য ইরান যুদ্ধ থেকে পাওয়া বিপুল আর্থিক লাভের একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ। তেল ব্যবসায়ীদের মতে, চলমান এই যুদ্ধ সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, সংঘাতের ৪০তম দিনে এসে গত বুধবার দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরান। তবে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকলেও এবং শান্তি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এদিকে সমুদ্রতলে পেতে রাখা সম্ভাব্য মাইন এড়িয়ে জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে হরমুজ প্রণালীতে নতুন ও বিকল্প রুট ঘোষণা করেছে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের নৌ শাখা।

এস এম/ ৯ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language