কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতির চরম অবনতি: আক্রান্ত ৯০০ ছাড়িয়েছে, মৃত ১১৯

কিনশাসা, ২৫ মে – গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে ইবোলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার নাগাদ সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৯ জন সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই ইতুরি প্রদেশের বাসিন্দা।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণের পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অব্যাহত সহিংসতায় অঞ্চলটিতে এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
পূর্ব কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি কতটা জটিল তা গত সপ্তাহের একটি ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে। ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া প্রধান দুটি শহরের ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,
সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা মূলত সেই পরিস্থিতির বহিঃপ্রকাশ, যা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। রুয়ান্ডা সমর্থিত এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীরা কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও ইবোলার কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশ সরকারের অধীনে, তবে সেখানে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত দুর্বল।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী গ্যাব্রিয়েলা আরেনাস জানিয়েছেন, এই প্রাদুর্ভাব এমন জনগোষ্ঠীকে আঘাত করছে যারা আগে থেকেই নিরাপত্তাহীনতা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে জর্জরিত। বুনিয়া শহরের কাছাকাছি থাকা বাস্তুচ্যুতদের বড় শরণার্থী শিবিরগুলোতে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক সাহায্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস এর পরিচালক টমাস ম্যাকহেল জানান, বাজেট কমে যাওয়ায় সংক্রামক রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধের সক্ষমতা তলানিতে ঠেকেছে।
মাঠ পর্যায়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর কাছে ফেস শিল্ড, পিপিই স্যুট বা মৃতদেহ দাফন করার ব্যাগ পর্যন্ত নেই। হাসপাতাল পরিচালনাকারী সংস্থা উইমেন’স সলিডারিটি ফর ইনক্লুসিভ পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর সভাপতি জুলিয়েন লুসেঞ্জ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের কাছে কেবল কিছু হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও নার্সদের ব্যবহারের জন্য সামান্য মাস্ক অবশিষ্ট আছে।
ইবোলার এই নির্দিষ্ট প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও নামক ধরনটি পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলেছে। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।
বর্তমানে প্রাদুর্ভাবটি কঙ্গোর উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে একটি বড় ধরনের মহামারির সংকেত দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এম/ ২৫ মে ২০২৬









