আফ্রিকা

সুদানে ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি, এক সপ্তাহে নিহত দুই শতাধিক

খার্তুম, ১৪ মার্চ – পশ্চিম সুদানের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার পর জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান বিমান ও ড্রোন হামলায় এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ২০০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সুদান ও চাদ সীমান্তের কাছাকাছি আদিকং এলাকার ওই বাজারে ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে থাকা জ্বালানির গুদামে আগুন ধরে যায়।

বৃহস্পতিবার এই আগুন দ্রুত আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। চিকিৎসা সহায়তাকারী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স শুক্রবার জানিয়েছে যে তারা সীমান্তের ওপারে চাদের আদ্রে শহরের একটি হাসপাতালে ২০ জনের বেশি আহত মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত সাতজন শিশু রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায় যে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই এলাকায় এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের ড্রোন হামলা।

২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুদানের সশস্ত্র বাহিনী বা এসএএফ এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ এর মধ্যকার চলমান সংঘাতে ড্রোন এখন একটি প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি জানান যে ৪ মার্চ থেকে কর্দোফান অঞ্চল এবং হোয়াইট নাইল রাজ্যে ড্রোনের আঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। একাধিক সতর্কতা সত্ত্বেও যুদ্ধরত পক্ষগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের তথ্যমতে পশ্চিম কর্দোফানে এসএএফ এর হামলায় অন্তত ১৫২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে ৪ মার্চ আল-মুগলাদ এলাকার একটি বাজার ও হাসপাতালে হামলায় প্রায় ৫০ জন এবং কয়েকদিন পর আবু জাবাদ ও ওয়াদ বান্দার বাজারে হামলায় আরও ৪০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ১০ মার্চ আল-সুনুত এলাকায় বেসামরিক মানুষ বহনকারী একটি ট্রাকে হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন নিহত হন। আদিকংয়ে হামলার ঠিক আগের দিন হোয়াইট নাইল রাজ্যের শুকেইরি গ্রামে আরএসএফ এর ড্রোন হামলায় একটি বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুকেশ কপিলা জানিয়েছেন যে সুদানে ড্রোন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সহজে ব্যবহারযোগ্য ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি এখন আরএসএফ এর মতো বাহিনীর পছন্দের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বাজার, হাসপাতাল ও শরণার্থী শিবিরের মতো স্থানে হামলার মাধ্যমে মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে এসএএফ ইরানের তৈরি মোহাজের সিক্স যুদ্ধ ড্রোনসহ তুরস্ক ও রাশিয়ার সামরিক সহায়তা পাচ্ছে। অন্যদিকে নিজস্ব বিমানবাহিনী না থাকলেও আরএসএফ চাদ এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে ড্রোন সংগ্রহ করছে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি চরম আকার ধারণ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধে সুদানের মানবিক সংকট এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশটির প্রায় তিন কোটি সাইত্রিশ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং এক কোটি বিশ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এ এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language