দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়াল জাতিসংঘ

খারতুম, ১ মে – দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনমিস) মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই মিশনের সৈন্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শান্তিরক্ষা মিশনে এখন থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫০০ সৈন্য মোতায়েন থাকতে পারবে। এর আগে এই সৈন্য সংখ্যার সীমা ছিল ১৭ হাজার। তবে পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা আগের মতোই প্রায় ২ হাজার ১০০ জন বহাল রাখা হয়েছে। গৃহীত এই প্রস্তাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরকে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে মিশনের সক্ষমতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোতায়েন করা সদস্য সংখ্যা দক্ষিণ সুদানের পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত কি না, তা এই বিশেষ সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হবে।
শান্তিরক্ষী কমানোর এই সিদ্ধান্তে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের তিন আফ্রিকান দেশ সোমালিয়া, লাইবেরিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। চীনা রাষ্ট্রদূত সান লেই জানিয়েছেন যে, সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে আনায় ওই অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রুশ উপ রাষ্ট্রদূত আনা এভস্তিগনিভা বলেন যে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় শান্তিরক্ষা মিশনের হাতে পর্যাপ্ত সম্পদ ও জনবল থাকা আবশ্যক। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমঝোতা প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবের খসড়াটি তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে তারা সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে ৭ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেও পরে তা ১২ হাজার ৫০০ জনে চূড়ান্ত হয়। দক্ষিণ সুদানে বর্তমানে ৯ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১৪ হাজার। ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি ভয়াবহ সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে।
এস এম/ ১ মে ২০২৬









