আফ্রিকা

কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: প্রাণহানি বেড়ে ১৫০০ ছাড়াল

কিনশাসা, ৩০ জুলাই – গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১,৫২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে ৩,৪৪২ জন আক্রান্ত রোগীর তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যার কার্যকরী কোনো টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি এখনও অনুমোদিত হয়নি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে ৭৯৭ জন রোগী আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ৬১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে সংক্রমণ রোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধীরগতির কন্টাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম।

বর্তমানে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মাত্র ৭৮ শতাংশকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এই হার অন্তত ৯৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। ওই অঞ্চলে চলমান সশস্ত্র সংঘাত এবং অবৈধ খনি খননের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রাদুর্ভাবটি মূলত কঙ্গোর প্রত্যন্ত ইতুরী প্রদেশে কেন্দ্রীভূত হলেও বড় শহর কিসাঙ্গানিসহ মোট পাঁচটি প্রদেশে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা গত মঙ্গলবার নিজেদের ইবোলামুক্ত ঘোষণা করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলা বায়ুবাহিত রোগ না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এর সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকলেও কঙ্গোর অভ্যন্তরে এর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইবোলার অস্তিত্ব নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার এবং প্রথাগত শেষকৃত্যে বিধিনিষেধের কারণে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে।

গত ১৫ জুলাই নিয়াকুন্দে স্বাস্থ্য এলাকার একটি হাসপাতালে হামলার পর আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ডেজিরে দুয়াবো সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

কঙ্গোর ন্যাশনাল পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের ইনসিডেন্ট ম্যানেজার পিয়ের আকিলিমালি জানান, একদিকে সংক্রমণের ভয় এবং অন্যদিকে নিরাপত্তার অভাব স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করছে। তবে আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আগামী সপ্তাহেই তাদের উদ্ধারকারী দলগুলো পুনরায় কাজ শুরু করতে পারে।

এস এম/ ৩০ জুলাই ২০২৬


Back to top button