জাতীয়

২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা, ৩১ জুলাই – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চায় না এ দেশের মানুষ। তিনি মন্তব্য করেন যে দীর্ঘ রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি এ দেশের জনগণ কখনো বরদাশত করবে না।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখার পর তিনি এসব কথা বলেন। হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় আলিফ এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

হাসপাতালে অবস্থানকালে ডা. শফিকুর রহমান আহত আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তার চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি আলিফ ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হবিগঞ্জের ওই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানান।

তিনি বলেন যে যারা এই নৃশংস হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। জামায়াতের আমির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে পরিবর্তিত বাংলাদেশেও এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা অত্যন্ত হতাশাজনক। সরকার এই ঘটনার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে জাতি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। তিনি অভিযোগ করেন যে ভুক্তভোগীরা মামলা দায়ের করতে গিয়েও নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, যা আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সরকারের ওপর মানুষের উদ্বেগ বাড়বে। তিনি দাবি করেন যে সরকার যেন শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে যে আইন সবার জন্য সমান।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের মন্ত্রীদের বিভিন্ন মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে দুর্নীতির প্রতিকার না হলে পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব নয়।

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। পরিশেষে তিনি একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এনএন/ ৩১ জুলাই ২০২৬


Back to top button