ইউরোপ

কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলা: দাউদাউ করে জ্বলল তেলবাহী জাহাজ, ২৩ ভারতীয় নাবিককে বাঁচাল রাশিয়া

মস্কো, ০৭ অক্টোবর – কৃষ্ণ সাগরে এক শিহরণ জাগানো হামলার শিকার হলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ। সাগরের বুকে নাভাল ড্রোনের আঘাতে মুহূর্তে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো ট্যাঙ্কার। জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে অলৌকিকভাবে ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে রাশিয়ার কোস্টগার্ড বাহিনী।

গত মঙ্গলবার কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী রাশিয়ার বিখ্যাত রিসোর্ট শহর সোচির কাছাকাছি ‘সাইরিয়াস’ এলাকায় এই ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনাটি ঘটে। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, আক্রান্ত জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী আফরাম্যাক্স শ্রেণীর তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘রিও’।

জলন্ত অগ্নিকুণ্ড থেকে জীবন রক্ষা

হামলার পরপরই তেলবাহী জাহাজটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুতই আগুন পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। আকাশের পানে উঠতে থাকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় রুশ কোস্টগার্ড ও উদ্ধৃতি দল।

উদ্ধার অভিযানের বর্ণনায় রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দল যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, ততক্ষণে পুরো জাহাজটিই আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছিল। জাহাজে থাকা ২৩ জন নাবিকের সবাই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তীব্র আগুনের উত্তাপের কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল ছিল, তবে সৌভাগ্যবশত প্রত্যেক নাবিককে অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।”

নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর রাশিয়ার ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ইউনিট দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ট্যাঙ্কারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোচি উপকূলে জরুরি অবস্থা, আঙুল ইউক্রেনের দিকে

হামলার ঘটনাটি রাশিয়ার অত্যন্ত সুরক্ষিত বাণিজ্যিক ও পর্যটন অঞ্চল সাইরিয়াসের একদম কাছে হওয়ায় পুরো সোচি উপকূল জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, নীল সাগরের বুক চিরে দাউদাউ করে জ্বলছে বিশাল এই বাণিজ্যিক জাহাজটি।

এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্র ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হামলাটি ইউক্রেনের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে।

কারণ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে যে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রফতানি ও পরিবহনের ওপর নজরদারির অংশ হিসেবে ইউক্রেন সরকার আগেই এই ‘রিও’ ট্যাঙ্কারটিকে তাদের অফিসিয়াল নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ফলে কৃষ্ণ সাগরে রুশ অর্থনীতি ও জ্বালানি সাপ্লাই চেইনে আঘাত হানতেই ইউক্রেনীয় নাভাল ড্রোন দিয়ে এই সুনির্দিষ্ট টার্গেটেড হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নৌপথের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের ড্রোন হামলা কেবল আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যকেই ঝুঁকিতে ফেলবে না, বরং কৃষ্ণ সাগরে পরিবেশ বিপর্যয়েরও এক বিরাট আশঙ্কা তৈরি করছে।

এনএন/ ০৭ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language