আফ্রিকা

সুদানে ঐতিহ্যবাহী আদালতে ড্রোন হামলা: নিহত অন্তত ৩৫

খার্তুম, ৩ আগস্ট – উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের নর্থ দারফুর প্রদেশে একটি ঐতিহ্যবাহী আদালতকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির বিচারকার্য চলাকালে এই হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স।

হামলার সময় বিচারপ্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। রবিবারে স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে নর্থ দারফুর প্রদেশের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে এই হামলা হয়। বর্তমানে গ্রামটি আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানায়, হামলার সময় স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধ ও মামলার শুনানি চলছিল। বিচার কার্যক্রমে অংশ নিতে সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো এবং সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

হামলায় স্থানীয় ও গোত্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী আদালতের ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে একটি গাছের নিচে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

তার দাবি, নিহতদের মধ্যে চারজন গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফের দুইজন কমান্ডার রয়েছেন। গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত, যা দারফুরে সেনাবাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি এল-ফাশের থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে।

জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে আরএসএফের সহিংসতায় গণহত্যার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষই ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘায়িত এই সংঘাতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং সুদান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি।

এস এম/ ৩ আগস্ট ২০২৬


Back to top button