মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে ৯০০ কেজির মার্কিন বোমা হামলা, শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

তেহরান, ৩ আগস্ট – দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের একটি বেসামরিক ভবনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী একটি বোমা আঘাত হেনেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ভিডিও চিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ফুটেজ এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলায় একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে একই পরিবারের এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। তবে ওই পরিবারের আরও দুই সন্তান প্রাণে বেঁচে গেছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তদন্তে বলা হয়েছে, হামলায় সম্ভবত প্রায় ৯০০ কেজি বা ২ হাজার পাউন্ড ওজনের একটি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অন্যতম শক্তিশালী ও বড় বোমা। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পাওয়া গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ এবং বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট গর্তের আকার দেখে ধারণা করছেন যে এটি একটি মার্ক ৮৪ বোমা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে হামলার সময় ও স্থান সেই সময়ে ওই অঞ্চলে পরিচালিত মার্কিন সামরিক তৎপরতার সঙ্গে মিল রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের বরাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার ইরানে চালানো হামলার ব্যাপ্তি আগের রাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

তার মতে, এই হামলাগুলো ছিল ব্যাপক এবং তা লক্ষ্যবস্তুতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলার কারণে আশপাশের অন্তত ২০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ মূল কেন্দ্র থেকে ২০০ ফুটের বেশি দূরে ছড়িয়ে পড়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। ইরান সরকারও এই ঘটনায় কোনো সামরিক সদস্যের হতাহত হওয়ার খবর দেয়নি। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের এই অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে।

তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, তারা প্রতিবেদনটি সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায় না।

এস এম/ ৩ আগস্ট ২০২৬


Back to top button