কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন কৌশল

ওয়াশিংটন, ২ মে – মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের অনুমোদন এড়াতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কৌশলের নেপথ্যে মূলত কংগ্রেসের কাছ থেকে সামরিক অভিযানের অনুমোদন নেওয়ার আইনি সময়সীমা এড়ানোই প্রধান লক্ষ্য।
১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জরুরি ভিত্তিতে সেনা মোতায়েন করতে পারলেও ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তিনি অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করেছিলেন।
হাউসের স্পিকার মাইক জনসন এবং সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোরে চাক গ্রাসলিকে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, গত ৭ এপ্রিল থেকে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে কোনো গুলিবিনিময় হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে শত্রুতা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে সমাপ্ত হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে মূলত ১ মে তারিখের আইনি সময়সীমা কার্যকর হচ্ছে না।
যদিও ধারণা করা হয়েছিল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করবেন না। হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টকে অসাংবিধানিক বলেও অভিহিত করেন। তবে প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থান নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট নেতারা এই পদক্ষেপকে ক্ষমতার ভারসাম্য লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এই যুদ্ধকে বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য জিন শাহীন মনে করেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে এখনো হাজার হাজার মার্কিন সেনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এছাড়া আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে একটি অবৈধ যুদ্ধ পরিচালনা হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে আইনি বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
এস এম/ ২ মে ২০২৬









