১৩৭ বছর পর নিজ দেশে ফিরল জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক পাথর খোদাই করা ভাস্কর্য

হারারে, ১৮ এপ্রিল – দীর্ঘ ১৩৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পাথরে খোদাই করা পাখির ভাস্কর্যগুলো পুনরায় নিজ দেশে ফিরেছে। ‘জিম্বাবুয়ে বার্ড’ হিসেবে পরিচিত এই অনন্য ভাস্কর্যটি দেশটির জাতীয় পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঔপনিবেশিক শাসনামলে জিম্বাবুয়ে থেকে এই মহামূল্যবান নিদর্শনগুলো পাচার করা হয়েছিল। সর্বশেষ ভাস্কর্যটি চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আনা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া এই ঘটনাকে একটি জাতীয় প্রতীকের গৌরবময় প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ধূসর সোপস্টোনে খোদাই করা এই প্রাচীন ভাস্কর্যগুলো একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সেসিল রোডসের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। ভাস্কর্যটির পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা জিম্বাবুয়ের কিছু মানব দেহাবশেষও ফেরত দিয়েছে, যা ঔপনিবেশিক গবেষণার নামে একসময় বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি শিল্পকর্ম ফিরে পাওয়া নয়, বরং এটি ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের প্রতীকী সমাপ্তি নির্দেশ করে। এটি আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এই পাখির ভাস্কর্যগুলো মূলত মধ্যযুগীয় গ্রেট জিম্বাবুয়ে নগরীর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত। একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত এই শহরের দেয়ালে এই শিল্পকর্মগুলো সুশোভিত ছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই ভাস্কর্যগুলো জিম্বাবুয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পদ। ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই জিম্বাবুয়ে এসব হারানো সম্পদ ফিরিয়ে আনার জোর তৎপরতা শুরু করে।
ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশ থেকে অধিকাংশ নিদর্শন ফিরিয়ে আনা হলেও সর্বশেষ ভাস্কর্যটি ফেরত পেতে আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি জিম্বাবুয়েতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এই অমূল্য সম্পদ আর কখনোই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই প্রাপ্তি জিম্বাবুয়ের জনগণের জন্য এক বিশেষ আবেগের মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এস এম/ ১৮ এপ্রিল ২০২৬









