কঙ্গোতে ইবোলার হানা: খনি এলাকায় ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, মৃত অন্তত ৬৫

ব্রাজাভিল, ১৫ মে – আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোতে (DRC) আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) আফ্রিকান সেন্টার ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) এই উদ্বেগের খবর নিশ্চিত করেছে।
আফ্রিকা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কঙ্গোতে ২৪৬ জন এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন এবং এর মধ্যেই ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় সোনার খনি এলাকার বাসিন্দা। রাজধানী কিনশাশায় ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতেই ইবোলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় কঙ্গো সরকার, প্রতিবেশী উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিশেষ করে খনি শ্রমিকদের চলাচল এবং সীমান্তবর্তী মানুষের যাতায়াতের কারণে ভাইরাসটি প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সীমান্ত নজরদারি জোরদার এবং দ্রুত প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
ইবোলা সম্পর্কে যা জানা জরুরি
- উৎস: ইবোলা ভাইরাস প্রথম ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতেই শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, এটি বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। এটি দেশটিতে ১৭তম প্রাদুর্ভাব।
- কীভাবে ছড়ায়: আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ (রক্ত, লালা) বা ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়।
- লক্ষণ: প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হলে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ এবং শরীরের ভেতরে-বাইরে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।
- মৃত্যুর ঝুঁকি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইবোলার গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা প্রতিষেধক এখনও সহজলভ্য নয়।
আফ্রিকা সিডিসির নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন, ইতুরি প্রদেশের রাজধানী নুনিয়াতেও সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। খনি শ্রমিকদের মাধ্যমে রোগটি শহরাঞ্চলে এবং সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে আঞ্চলিক সমন্বয় এবং দ্রুত কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









