ইরান সংকটে ভারতের মধ্যস্থতা চাইলেন ল্যাভরভ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা

মস্কো, ১৫ মে – পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির সংকট নিরসনে ভারতকে ‘দীর্ঘমেয়াদি মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
ল্যাভরভ সরাসরি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘উসকানিবিহীন আগ্রাসনই’ অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। দোভাষীর মাধ্যমে তিনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারির আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। জ্বালানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইরানকে অস্থিতিশীলকারী শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।” তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রস্তাবে ল্যাভরভ বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে ভারত এই সংকটে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। তার মতে, ভারত বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতি এবং এই অঞ্চল থেকে তেল আমদানিতে সরাসরি আগ্রহী।
ভারত তার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আলোচনার টেবিলে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। ল্যাভরভের ভাষ্য অনুযায়ী, “ব্রিকস কোনো সংগঠন হিসেবে নয়, বরং ভারতের মতো আগ্রহী সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই সংকটে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন ল্যাভরভ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি জানান ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দুই দেশ। ভারতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ ভারতের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে। উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর সম্প্রসারণসহ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দেশগুলো একমত হয়েছে। ল্যাভরভের এই সফর ও প্রস্তাব বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









