জাপানে ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: বুলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ

টোকিও, ১৫ মে – ভয়াবহ এক ভূমিকম্পের স্মৃতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও কেঁপে উঠল সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির উত্তরাঞ্চলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে রিখটার স্কেলে ৬.৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, এবার কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২২ মিনিটে মিয়াগি প্রিফেকচার উপকূলের কাছাকাছি এই কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জাপানের বিখ্যাত দ্রুতগতির শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে (NHK) জানিয়েছে, কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিয়াগি ও ফুকোশিমা অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গত এপ্রিল মাসেই এই অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় ৭.৭ মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প হয়েছিল, যা সুনামির আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। জেএমএ (JMA) সতর্ক করে বলেছে, যদিও বর্তমান বিশেষ সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে এই অঞ্চলে অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল থাকায় ভূ-গর্ভস্থ অস্থিরতা লেগেই থাকে। ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি আজও জাপানবাসীকে আতঙ্কিত করে তোলে, যেখানে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপের মাঝেও জাপানের উন্নত প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা আবারও বড় ধরণের প্রাণহানি থেকে দেশটিকে রক্ষা করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









