ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধ স্বর্ণখনিতে পাহাড় ধস: মাটির নিচে চাপা পড়ে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

জাকার্তা, ১৫ মে – ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে সোনা খোঁজার নেশা কেড়ে নিল ৯টি তাজা প্রাণ। একটি অবৈধ স্বর্ণখনিতে কাজ করার সময় হঠাৎ পাহাড় ধসে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির স্থানীয় পুলিশ এই ভয়াবহ প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম সুমাত্রার সিজুঞ্জুং জেলায়। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ওই অবৈধ খনিটির পাশে থাকা একটি বিশাল পাহাড় হঠাৎ ধসে পড়ে। সেই সময় শ্রমিকরা পাহাড়ের প্রায় তিন মিটার নিচে সোনার আকরিক সংগ্রহের কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর তাদের ওপর আছড়ে পড়ে।
পশ্চিম সুমাত্রা পুলিশের মুখপাত্র সুস্মেলাবতি রোসা জানান, ঘটনাস্থলেই ৯ জন শ্রমিক নিহত হন। তবে অলৌকিকভাবে ৩ জন শ্রমিক জীবিত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে নিখোঁজ সব শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে খনিটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইন্দোনেশিয়ায় খনিজ সম্পদ প্রচুর থাকলেও অনুমোদনহীন খনন একটি বড় সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিত্যক্ত খনিগুলোতে স্থানীয়রা কোনো রকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সোনা সংগ্রহ করেন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়, যা ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ওয়ালহি’। তাদের তথ্যমতে, ২০১২ সাল থেকে শুধুমাত্র পশ্চিম সুমাত্রাতেই অবৈধ খনিতে দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “সিজুঞ্জুংয়ের এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে পরিবেশবিধ্বংসী এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ খনন নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।”
এর আগে ২০২৪ সালে সুলাওয়েসি এবং গত বছর পশ্চিম জাভাতেও একই ধরনের খনি দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন ট্র্যাজেডি সত্ত্বেও অবৈধ খনন বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









