উত্তর আমেরিকা

“আর ধৈর্য ধরব না, চুক্তি করতেই হবে”: ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটন, ১৫ মে – মধ্যপ্রাচ্যের বারুদ যেন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে জলপথে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক—সব মিলিয়ে ইরান ইস্যুতে এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ক্রমশ ধৈর্য হারাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ প্রকাশ পায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প ও শি জিনপিং এই জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

শি জিনপিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি হরমুজ প্রণালির সামরিকীকরণ এবং কোনো ধরণের ‘টোল’ আরোপের ঘোর বিরোধী।

ইরানের সবচেয়ে বড় তেলের ক্রেতা এবং ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন কি তবে ইরানের পাশ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে? ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শি তাকে কথা দিয়েছেন যে চীন ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চললেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের দ্রুত একটি চুক্তিতে আসা উচিত। ইউরেনিয়ামের মজুত আমাদের হাতে থাকলে আমরা স্বস্তি বোধ করব।”

আলোচনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ওমান উপকূলের কাছে আফ্রিকা থেকে আসা একটি ভারতীয় পশুবাহী জাহাজ রহস্যজনকভাবে ডুবে গেছে। ব্রিটিশ সংস্থা ভ্যানগার্ডের দাবি, জাহাজটিতে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের কাছ থেকে একটি জাহাজ ‘অননুমোদিত ব্যক্তিরা’ ছিনতাই করে ইরানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তাই তিনি চাচ্ছেন চীনের সহায়তায় এই সংকটের সমাধান করতে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় চীন ইরানের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা চীনের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে জড়িত, তাই তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। কিন্তু ইরানের মরণপণ অবস্থান পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

এনএন/ ১৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language