জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: সংকটের মুখে আফ্রিকার বিমান শিল্প

আবুজ, ২৩ এপ্রিল – ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতায় মারাত্মক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে আফ্রিকার বিমান চলাচল শিল্প। জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলের বিমান সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনেক এয়ারলাইন্স টিকিটের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে যা আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। আভিয়েশন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাইজেরীয় ব্যবসায়ী আলিকো ডাঙ্গোটে ওয়াশিংটনের এক সম্মেলনে সতর্ক করে বলেছেন যে জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আফ্রিকার অনেক বিমান সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে যুদ্ধের প্রভাবে প্রতি সপ্তাহে তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রুট পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপে গত কয়েক মাসে সংস্থাটি শত শত নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এই সংকট মোকাবিলায় কেনিয়া এয়ারওয়েজ তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট পয়েন্টগুলো এড়িয়ে তারা এখন নাইরোবি হাবের মাধ্যমে ইউরোপীয় যাত্রীদের যাতায়াত নিশ্চিত করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে কেবল রুট পরিবর্তন বা জ্বালানি মজুত করে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে শোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাব আফ্রিকার পর্যটন শিল্পেও পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে টিকিটের বাড়তি দামের কারণে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। কেপটাউনের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ব্যাপক আর্থিক লোকসানের শিকার হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে পূর্ববর্তী মহামারী কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।
এস এম/ ২৩ এপ্রিল ২০২৬









