টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বুনো মা হাতির মৃত্যু

কক্সবাজার, ১২ জুলাই – কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত বুনো মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রোববার সকালে হাতিটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এর আগে গত শনিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী হাতিটি পাহাড়ের চূড়ায় খাবার খাওয়ার সময় বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে নিচে পড়ে যায়। ওপর থেকে নিচে পড়ার সময় হাতিটি বিভিন্ন গাছের সাথে ধাক্কা খায় এবং এতে সেটির পেছনের পা দুটি ভেঙে যায়।
এছাড়া পেটের কিছু অংশ কেটে গিয়ে হাতিটি মারাত্মক জখম হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, চিকিৎসকেরা হাতিটিকে সুস্থ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন কিন্তু আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি আশঙ্কাজনকভাবে আহত হয়েছিল। বর্তমানে চিকিৎসক দল হাতিটির ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার দুপুরে বিকট শব্দ ও হাতির চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফের এই পাহাড়ে অন্তত ২৩টি এশিয়ান জাতের হাতির বিচরণ রয়েছে। ভারী বর্ষণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বন্য প্রাণীদের এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
এস এম/ ১২ জুলাই ২০২৬









