কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি তিন লাখ মানুষ

কক্সবাজার, ১১ জুলাই – টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজার জেলায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনে জেলাজুড়ে পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন প্রায় তিন লাখ মানুষ।
শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকা উল্টে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা নামের ১২ বছরের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী এলাকায় পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বন্যায় চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীসহ ১০টি উপজেলার অন্তত ১৫০টি গ্রাম এখন পানির নিচে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, দুর্গতদের জন্য ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০০ টন চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
এনএন/ ১১ জুলাই ২০২৬









