কক্সবাজার

কক্সবাজারে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

কক্সবাজার, ২৩ জুন – কক্সবাজারের মৎস্য খাতের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে বাঁকখালী নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। একই ছাদের নিচে মাছ খালাস, আধুনিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, প্যাকেজিং এবং বাজারজাতকরণের সব সুবিধা নিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে জাইকার অর্থায়নে নির্মিত এই কেন্দ্রটি চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন,

বর্তমানে কক্সবাজারে মাছ খালাস ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাপক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত জেটি না থাকায় গভীর সমুদ্র থেকে আসা মাছ দ্রুত বাজারজাত করতে না পারায় জেলেরা প্রায়ই লোকসানের শিকার হন। বর্তমানে মাত্র ১০টি ট্রলার মাছ খালাস করতে পারলেও নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে একসঙ্গে ৬০টি ট্রলারের ধারণক্ষমতা তৈরি হবে। ফলে মাছ খালাস ও পরিবহনের সময় ৪ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ২ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

এই প্রকল্পের অধীনে একটি ৩ তলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে মাছ হ্যান্ডলিং এলাকা, ট্রাক টার্মিনাল, ব্যবসায়ীদের অফিস, বিশ্রামাগার ও দুর্যোগকালীন মজুদ সুবিধার পাশাপাশি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ থাকবে। কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বৈদ্য জানান, আধুনিক ফ্রিজিং প্ল্যান্টের কারণে মাছের গুণগত মান ঠিক রেখে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে,

বাঁকখালী নদীর তীরে ইতোমধ্যে টেকসই বাঁধ, দুটি স্টিলের জেটি, দুটি পন্টুন ও দুটি গ্যাংওয়ে নির্মিত হয়েছে। মাছের গুণগত মান বজায় রাখতে আধুনিক ধোয়ার বেসিন, কুলার বক্স ও ওজন মাপার যন্ত্রসহ উচ্চচাপ ওয়াশারের সুবিধা থাকবে। জাইকার অর্থায়নে প্রায় ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মৎস্য খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই আধুনিকায়ন সমুদ্র অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

এস এম/ ২৩ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language