তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে ডানিয়ুব নদী, বন্ধ রোমানিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

বুখারেস্ট, ১৪ আগস্ট – ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরায় মহাদেশটির অন্যতম প্রধান নদী ডানিয়ুবের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। এর প্রভাবে রোমানিয়ার একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চেরনাভোদায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নদী থেকে প্রয়োজনীয় ঠান্ডা পানি সংগ্রহ করতে না পারায় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
দুই রিয়্যাক্টরবিশিষ্ট এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রোমানিয়ার মোট জাতীয় চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করত। বর্তমানে পানির অভাবে কুলিং সিস্টেম সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা খুবই কম। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরটি গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এর আগে জুলাই মাসেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রথম রিয়্যাক্টরটি। কেন্দ্রটির পরিচালক রোমেও উরজান জানান, ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পানির স্তর বাড়াতে নদীতে পাথরবোঝাই কার্গো ডুবিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রতিবেশী হাঙ্গেরির পাক্স পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সেখানেও ডানিয়ুবের পানি এত নিচে নেমে গেছে যে সাকশন নজলগুলো পানি টানতে পারছে না। এই বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে রোমানিয়া এখন সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের ওপর জোর দিলেও রাতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। এর ফলে ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। খরা ও দাবানলের কারণে কৃষি ও অন্যান্য খাতে শত শত কোটি ইউরোর ক্ষতি হচ্ছে। গ্রিস ও ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং লন্ডনে তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সামান্য বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তা খরা নিরসনে যথেষ্ট নয়।
এস এম/ ১৪ আগস্ট ২০২৬









