জন্মহার বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের অভিনব উদ্যোগ: সরকারি কর্মীদের জন্য ‘নোবেলজয়ী অ্যালগরিদমে’ ডেটিং অ্যাপ

সিঙ্গাপুর সিটি, ৩০ সেপ্টেম্বর – দেশে রেকর্ড পরিমাণ জন্মহার হ্রাস ও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট সামলাতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। সরকারি চাকুরিজীবী সিঙ্গেলদের যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে ‘ফার্স্টডেট’ (FirstDate) নামের একটি বিশেষ ম্যাচমেকিং বা ডেটিং অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য গভটেক (GovTech) পরিচালিত এই পাইলট প্রকল্পটি উন্মুক্ত করা হয়।
অ্যাপটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের মতো সোয়াইপ করার কোনো ঝক্কি নেই। এতে ব্যবহার করা হয়েছে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী লয়েড শ্যাপলির বিখ্যাত ‘গেইল-শ্যাপলি স্টেবল ম্যারিজ’ (Gale-Shapley Algorithm) অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ ও দৃষ্টিভঙ্গির সংক্ষিপ্ত জরিপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই অ্যালগরিদম নিখুঁত সামঞ্জস্য রেখে একবারে কেবল একজন মানানসই সঙ্গীর সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দেয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেশাগত আস্থা
অ্যাপটিতে প্রবেশ করতে সিঙ্গাপুরের জাতীয় ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম (Singpass) ব্যবহার করতে হয়। ফলে ভুয়া প্রোফাইল কিংবা স্ক্যামের কোনো সুযোগ নেই। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী এলিজাবেথ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “সবাই সরকারি চাকুরিজীবী হওয়ায় পরিচয় নিয়ে ভুয়া তথ্যের ভয় নেই, যা ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দারুণ স্বস্তি দেয়।”
তীব্র বিতর্ক ও ডিস্টোপিয়ান সমালোচনা
তবে উদ্যোগটি চালুর পরপরই দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে:
সরকারি নিয়ন্ত্রণের ভয়: অনেকে এই পদক্ষেপকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবন ও প্রণয়ে সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বা ‘ডিস্টোপিয়ান নিয়ন্ত্রণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
পেশা ও বয়সজনিত বৈষম্য: সাধারণ নাগরিকদের বাদ দিয়ে শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ দেওয়া এবং ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সিঙ্গেলদের বিবেচনা না করায় বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, সরকার বাস্তবিক সঙ্গী খোঁজার চেয়ে জনসংখ্যা ও সন্তান জন্মদানের হার বাড়াতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে প্রাথমিক ধাপের পর এটি আমজনতার জন্য উন্মুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংস্থাটি।
চরম জনসংখ্যা সংকটে দেশ
পরিসংখ্যান বলছে, গত ষাট বছরের ইতিহাসে ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে (৩০ হাজারের নিচে) নেমে এসেছে। বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০-এ। জন্মহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং সম্প্রতি শিশু প্রতি ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এর আগে ১৯৮৪ সালেও সিঙ্গাপুর ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ গঠন করেছিল এবং ২০২৪ সালে জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার এআই ডেটিং অ্যাপ চালু করেছিল, যার মাধ্যমে শত শত দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
এনএন/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







