মধ্যপ্রাচ্য

তুরস্কে ট্রাম্পের বিমান বদল নিয়ে ইরানের বিদ্রূপ, ‘খুব শিগগিরই তিনি ডাস্টবিনে লুকোবেন’

তেহরান, ১৪ আগস্ট – তুরস্ক সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের খবর নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্প এই নাটকীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য চরম অপমানজনক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। জানা গেছে, নেটো সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় অবস্থান করছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের শেষ দিনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পারে যে, প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্যে এই হুমকিকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে একটি ছোট সি ৩২এ বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তুরস্ক সফরে ট্রাম্প যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন এবং তার কক্ষ নম্বর কত ছিল, তা ইরানের কাছে নির্ভুলভাবে জানা ছিল।

এই তথ্য ফাঁসের পর মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ৮ জুলাই তুরস্ক ত্যাগের সময় ট্রাম্প ও তার অল্প কয়েকজন সঙ্গীকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে করে ছোট বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের নিয়ে মূল এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি যথাসময়ে আলাদাভাবে উড্ডয়ন করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই গোপনীয়তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ছবি সংবলিত বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার পূর্বসূরির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপপরিচালক আলী ওয়ায়েজ বলেন, ইরানের কট্টরপন্থীরা ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্বেগ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করছে।

তবে বিমান পরিবর্তন বা মার্কিন নথির বিষয়ে তেহরান বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০২৪ সালেও ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ গঠন করেছিল। ২০১৮ সালে ইরাক সফরের সময়ও ট্রাম্প অন্ধকার বিমানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিলেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনা মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এস এম/ ১৪ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language