শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১০৭

ব্রাসেলস, ০৯ অক্টোবর- ফ্রান্সের পর এবার প্রতিবেশী বেলজিয়ামেও শিক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। উচ্চশিক্ষার ফি বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহে নানা সমস্যার প্রতিবাদে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিয়েজে শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে অবস্থান নিয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় ১০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। বেলজিয়ামের বার্তা সংস্থা বেলগা জানিয়েছে, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিক্ষোভের তীব্রতার মধ্যে বৃহস্পতিবার সরকারি সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে লিয়েজের ব্যবসায়ীদের দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সতর্কবার্তায় জানানো হয়, শহরে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে। এ কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লিয়েজের প্রধান রেলস্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য স্টেশনটি আবার চালু করা হয়। শহরের কেন্দ্রস্থলে যাতায়াত এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মূলত বেলজিয়ামের ফরাসিভাষী অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব, শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহের নানা সমস্যার প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে নেমেছেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে বিভিন্ন স্লোগান দেখা গেছে। এর মধ্যে ছিল, ‘সবকিছু এলোমেলো, আমরা অধিকার আদায়ের জন্য লড়ছি, কোনো সুবিধার জন্য নয়’ এবং ‘আমি শিক্ষা বেছে নিয়েছি, ক্ষুধার খেলা নয়।’
এর আগে গত জুনেও ব্রাসেলসে শিক্ষা সংস্কারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। প্রস্তাবিত সংস্কার অনুযায়ী, ফরাসিভাষী অঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৪ ইউরো করার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে লিয়েজের বিভিন্ন সড়কে ভাঙা কাচ, আগুন এবং শত শত তরুণ বিক্ষোভকারীর উপস্থিতি দেখা গেছে। কিছু ভিডিওতে পুলিশকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীদের তল্লাশি করতেও দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ফ্রান্সে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলফ্রেড রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সমর্থন করছি। কারণ, আমরা প্রায় একই সমস্যার মুখোমুখি।’
লিয়েজের মেয়র উইলি দেমেয়ার পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তরুণদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন এবং তাদের উদ্বেগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
এস এম/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬







