জাতীয়

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্বে কারা? সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় একাধিক নাম

ঢাকা, ০৮ অক্টোবর – মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ও সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কের পর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন—এ নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

দলীয়ভাবে এখনো কোনো নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে মাঠের রাজনীতি, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে সাবেক যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক সক্রিয়তাই নয়, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলীয় শৃঙ্খলা, তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তিকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

সভাপতি পদে আলোচনায় একাধিক নেতা

সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, মিজানুর রহমান রাজ, আবুল হাসান টিটু, আইয়ুব আলী ও তসলিম আহসান মাসুম। এর মধ্যে মনিরুল ইসলাম স্বপন আগের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন কমিটি নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়নি—এমন ত্যাগী, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মীদের নেতৃত্বে আনা উচিত।

স্বপনের ভাষ্য, দল তাকে মূল্যায়ন করলে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ‘ধান্দাবাজি’ থেকে সংগঠনকে দূরে রেখে আরও গতিশীল যুবদল গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

সভাপতি পদের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা। এ পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুলহাস উদ্দিন, বাছিরুল ইসলাম রানা, মেহেদী হাসান রুবেল, আইয়ুব আলী, আমিনুল হক হিমেল ও ফরহাদ আলী সজীবসহ আরও কয়েকজন।

তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে দায়িত্ব জুটবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং সাংগঠনিক সমীকরণের ওপর।

জুলহাসের দাবি, ১৭টি মামলায় জড়িয়েছেন

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা জুলহাস উদ্দিন দীর্ঘদিন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয়। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু করা এই নেতার দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় তিনবার কারাগারেও যেতে হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই শান্তিনগর ও কাকরাইলে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার কথাও জানান তিনি।

দল তাকে মূল্যায়ন করলে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে একটি ‘মানবিক সংগঠনে’ পরিণত করার প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন জুলহাস।

চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ কাটিয়ে উঠতে চান রানা

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা আরেক নেতা বাছিরুল ইসলাম খান রানা সংগঠনের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দল তাকে দায়িত্ব দিলে এসব অভিযোগ থেকে সংগঠনকে বের করে এনে ভালো কাজের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন। তার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—নতুন নেতৃত্বের সামনে শুধু সাংগঠনিক সম্প্রসারণ নয়, যুবদলের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জও থাকবে।

নতুন কমিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির এক সিনিয়র নেতার মতে, নতুন কমিটি গঠন করাই শেষ কথা নয়। বরং থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা মহানগর উত্তর রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট। ফলে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একদিকে যেমন তৃণমূলের কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে, অন্যদিকে দলীয় কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া সংগঠনের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ মোকাবিলা করে নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করাও নতুন নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখবে কেন্দ্র?

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোন ধরনের সাংগঠনিক সমীকরণকে অগ্রাধিকার দেবে?

আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘদিন যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয়, আবার কেউ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। কারও রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, কারও রয়েছে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের রেকর্ড। ফলে শেষ পর্যন্ত শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তি এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষমতা—এসব বিষয়ই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কেন বিলুপ্ত করা হয়েছিল আগের কমিটি?

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের হাতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দায়িত্ব তুলে দেয়। কারণ নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শুধু দুটি পদ পূরণ করবেন না—তাদের হাতেই নির্ভর করবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটের পরবর্তী সাংগঠনিক গতিপথ।

এনএন/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language