কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন

কুড়িগ্রাম, ৩ জুলাই – কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি দ্রুত হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে জেলার বিভিন্ন জনপদে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ভাঙনের পাশাপাশি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে প্রায় ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি ৭০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমেছে। তবে ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত পাঁচ দিনে ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, রাজারহাট ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩০ থেকে ৩৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বিশেষ করে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের বেশ কিছু স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে নদীভাঙনের জন্য ৪২টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দ্বিতীয় দফার প্লাবনে পাট, চীনাবাদাম, আউশ ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্লাবিত জমির অধিকাংশ ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলেও কিছু বীজতলা রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এস এম/ ৩ জুলাই ২০২৬









