মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে শি জিনপিংয়ের চার দফা প্রস্তাবে ইরানের সমর্থন

বেইজিং, ১১ মে – মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেওয়া চার দফা শান্তি প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানাল ইরান। বেইজিংয়ে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্দুলরেজা রহমানি ফাজলি এই সমর্থনের কথা নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের এই মধ্যস্থতা এবং ইরানের ইতিবাচক সাড়া মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একক আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইরানি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, চীনের এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সবার জন্য সমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। ইরানের মতে, বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে শান্তি রক্ষা করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ আল নাহিয়ানের বেইজিং সফরের সময় এই চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন শি জিনপিং।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংকট নিরসনে চীনের এই প্রস্তাবে চারটি মৌলিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি টেকসই ও সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
২. জাতীয় সার্বভৌমত্ব: প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি নিঃশর্ত সম্মান জানানো এবং কোনোভাবেই তার লঙ্ঘন না করা।
৩. আন্তর্জাতিক আইনের শাসন: জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী বিশ্বব্যবস্থা পরিচালনা করা এবং আইনের বৈষম্যমূলক প্রয়োগ বা জবরদস্তিমূলক শাসন বন্ধ করা।
৪. উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য: উন্নয়ন ছাড়া নিরাপত্তা সম্ভব নয়, আবার নিরাপত্তা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না—তাই এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব ছিল একচেটিয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে চীনের সফল মধ্যস্থতা বেইজিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শি জিনপিংয়ের এই চার দফা প্রস্তাব মূলত একটি “উই-উইন” পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিনিময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। ইরানের এই সমর্থন পাওয়ার পর এখন দেখার বিষয়—সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলো চীনের এই রোডম্যাপকে কীভাবে গ্রহণ করে। যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এক নতুন মেরুকরণ দেখা যেতে পারে।
এনএন/ ১১ মে ২০২৬









