ঢালিউড

ইলিয়াস কাঞ্চনের ব্রেন টিউমারের খবরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী চম্পা

ঢাকা, ১১ মে – ঢাকাই সিনেমার ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কাণ্ডারি ইলিয়াস কাঞ্চন গুরুতর অসুস্থ। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে তিনি বর্তমানে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন। প্রিয় সহকর্মীর এই কঠিন দুঃসংবাদ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর একসময়ের পর্দা কাঁপানো সহ-অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কাঞ্চনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।

একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চম্পা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “কাঞ্চন ভাইয়ের এই দুঃসংবাদ এত তাড়াতাড়ি শুনতে হবে, তা কখনোই ভাবিনি। এটা সত্যিই অনেক দুঃখজনক এবং মেনে নেওয়া যায় না।”

কাজের ক্ষেত্রে ইলিয়াস কাঞ্চনের অদম্য সাহসিকতার কথা স্মরণ করে চম্পা বলেন, “শুটিংয়ের সময় ওনার সঙ্গে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। একবার অনেক উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকেও উনি মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে লড়াই করে ফিরে এসেছেন। সেই মানুষটি আজ এভাবে শয্যাশায়ী হবেন, তা ভাবা যায় না।”

কেবল অভিনয়ের সহকর্মী হিসেবেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ইলিয়াস কাঞ্চন ছিলেন চম্পার কাছে একজন পথপ্রদর্শক। চম্পা জানান, “কাঞ্চন ভাই নিয়মিত ধর্ম পালন করতেন। আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলতেন— তুমি নামাজ পড়ো, এটা করো, ওটা করো। উনার কাছ থেকে আমাদের সবার অনেক কিছু শেখার আছে।” প্রিয় সহকর্মীর সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে দেশবাসীর কাছেও দোয়া চেয়েছেন তিনি।

ইলিয়াস কাঞ্চন কেবল একজন সুপারস্টার অভিনেতা নন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক ভরসার নাম। সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে রাজপথে লড়াই করা এই নায়কের হঠাৎ এমন অসুস্থতায় শোকাতুর পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গন ও তাঁর অগণিত ভক্তরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনের একটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসা চলছে। টিউমারটি কতটা জটিল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে ভক্তদের আশা, যে মানুষটি আজীবন মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করেছেন, তিনি এবারও মৃত্যুর মুখ থেকে বিজয়ী হয়ে ফিরে আসবেন।

এনএন/ ১১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language