শিক্ষা

ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাচ্ছেন খালেদা জিয়া; যুক্ত হচ্ছে ৭ নভেম্বর ও মুক্তিযুদ্ধের বিস্তারিত সেক্টর

ঢাকা, ১১ মে – দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের বহু অমীমাংসিত ও উপেক্ষিত বিষয় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকা এখন থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাঠ্যবইয়ে পড়বে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতিহাসের পাঠে যা যা বদলাচ্ছে

নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির আলোকে মাধ্যমিক স্তরের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন আনা হচ্ছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে:

  • খালেদা জিয়ার ভূমিকা: নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও সংগ্রামকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে।
  • ৭ নভেম্বরের ঘটনা: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও ঘটনাবলি এখন থেকে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে।
  • মুক্তিযুদ্ধের বিস্তারিত: মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর এবং সেক্টর কমান্ডারদের বিস্তারিত বর্ণনা নতুন করে সাজানো হচ্ছে।
  • জুলাই অভ্যুত্থান: ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু যুক্ত হয়েছে, যা ২০২৭ সালের বইয়ে আরও বিস্তারিত ও সুসংহতভাবে থাকবে।

আনন্দময় শিক্ষা ও নতুন বই

কেবল ইতিহাস নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরও আনন্দদায়ক করতে আনা হচ্ছে নতুন বিষয়:

১. ষষ্ঠ শ্রেণি: যুক্ত হচ্ছে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বিষয়ক নতুন বই। পাশাপাশি ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ বইটিতে কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিমার্জন করা হচ্ছে।

২. চতুর্থ শ্রেণি: শিশুদের জন্য ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক নতুন বই চালু করা হচ্ছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকের সমন্বয়ে এই পরিমার্জনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, “মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে প্রাথমিকের বইগুলো পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস জানুক।”

সরকার প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য ৩০ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করে। আগামী বছরের বইগুলো যেন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়, সেজন্য ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই সব বই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঠিক মূল্যায়ন এবং ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ উপস্থাপন জরুরি। দীর্ঘ সময় ধরে ইতিহাসের কিছু অংশ পাঠ্যবইয়ে উপেক্ষিত ছিল বলে যে অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ সেই ‘শূন্যতা’ পূরণের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ৭ নভেম্বরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

এনএন/ ১১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language