এশিয়া

চীনে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: প্রাণ গেল ২১ জনের

বেইজিং, ৫ মে – চীনের হুনান প্রদেশে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে একটি আতশবাজি কারখানা। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৬১ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে হুনান প্রদেশের লিউইয়াং শহরের ‘লিউইয়াং হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি’তে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কারখানার ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সব ভবন কেঁপে ওঠে। এমনকি পাশের আবাসিক এলাকার জানালা ও কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও দৃশ্যমান ছিল।

উদ্ধার কাজে গতি আনতে এবং প্রাণের ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে চীন। ধসে পড়া ভবনের ভেতরে এবং বিপজ্জনক কোণগুলোতে যেখানে মানুষের প্রবেশ কঠিন, সেখানে আটকা পড়াদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রায় ৫০০ উদ্ধারকর্মী, ফায়ার সার্ভিস ও চিকিৎসাকর্মী ঘটনাস্থলে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় কোনো বিস্ফোরণ এড়াতে কারখানার চারপাশের ৩ কিলোমিটার এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “এই দুর্ঘটনার পেছনে যাদের অবহেলা বা গাফিলতি রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।”

ইতিমধ্যেই পুলিশ আতশবাজি কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘নি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা’ নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দাহ্য পদার্থের মজুত বা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই এই প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণ।

চীনে উৎসবের মৌসুমের আগে আতশবাজি কারখানাগুলোতে কাজের চাপ বেড়ে যায়, যার ফলে প্রায়শই নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করার অভিযোগ ওঠে। ২০২৬-এর এই বড় দুর্ঘটনাটি দেশটির শিল্প নিরাপত্তা আইন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলল। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো লিউইয়াং শহর এখন থমথমে।

এনএন/ ৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language