গুমের পর সাজানো জঙ্গি নাটক: ট্রাইব্যুনালে মাসরুরের লোমহর্ষক জবানবন্দি

ঢাকা, ২১ এপ্রিল – আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার বর্ণনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছেন প্রকৌশলী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। র্যাবের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চলমান এই মামলায় ৩৬ বছর বয়সী মাসরুর জানান, মূলত সরকারের সমালোচনা এবং নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাকে গুম করা হয়েছিল।
ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা মাসরুর ২০২০ সালের ১ মার্চ সকালে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে অপহৃত হন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, সাদা পোশাকধারী কয়েকজন লোক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এরপর তাকে একটি অন্ধকার সেলে বন্দি রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিয়ে বারবার চাপ প্রয়োগ করা হয়।
মাসরুর ট্রাইব্যুনালকে জানান, অপহরণের কয়েক দিন পর তাকে র্যাব-১১ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাকে একটি সাজানো জঙ্গি নাটক বা ‘ফিটিং অপারেশন’ এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানায় সোপর্দ করে একটি জঙ্গি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ১০ মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেককেই এভাবে জঙ্গি তকমা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যার প্রমাণ গুম কমিশনের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।
এস এম/ ২১ এপ্রিল ২০২৬









