জাতীয়

সন্তানদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ: সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ জুন – স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় তার দুই ছেলের নামে নতুন দুটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সোমবার জাতীয় সংসদে ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নিজে।

তিনি দাবি করেছেন যে প্রশাসনিক যাচাই বাছাই এবং গণশুনানির ভিত্তিতেই ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর সাথে তার সন্তানদের নামের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।

এর আগে সংসদ অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই নামকরণের তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে প্রতিমন্ত্রীর মীর বংশের খাতিরে একটি ইউনিয়নের নাম মীরবাড়ি রাখা হয়েছে এবং তার দুই সন্তান দিগন্ত ও সীমান্তর নামের সাথে মিল রেখে আরও দুটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করেন না এবং দেশবাসীও সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর চাওয়াও প্রধানমন্ত্রীর মতোই হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে প্রশাসনিক সুবিধার্থেই সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে নতুন ইউনিয়ন করা হয়েছে। গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় একটির নাম রাখা হয়েছে সীমান্ত। অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলার সীমান্তবর্তী এবং মূল কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী হওয়ায় অন্যটির নাম দেওয়া হয়েছে দিগন্ত।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে দেউলী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করা হয়নি বরং সেটি ভেঙে নতুনভাবে দিগন্ত নামে আরেকটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন যে অলৌকিকভাবে তার সন্তানদের নামের সাথে ইউনিয়নের নাম মিলে গেলেও তার সন্তানদের নাম মূলত মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। তার যদি কোনো অসৎ ইচ্ছা থাকত তবে তিনি নামের আগে মীর যুক্ত করার অনুরোধ করতে পারতেন।

তিনি রসিকতা করে বলেন যে খুলনার সীমান্ত এক্সপ্রেস কিংবা সীমান্ত ব্যাংক যেমন তার নয় তেমনি এই ইউনিয়নগুলোও কেবল ভৌগোলিক কারণে এই নাম পেয়েছে।

পরিশেষে তিনি সংসদ সদস্যের ভিত্তিহীন বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন যে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা এবং বিরোধী দলীয় সদস্যের বক্তব্য উভয়ই নথিতে থাকবে তবে অসংসদীয় কিছু থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে।

এনএন/ ১৬ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language