দিল্লি এয়ারপোর্টে উপদেষ্টাকে হেনস্তা: সংসদে ক্ষোভ জামায়াত এমপির, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি!

ঢাকা, ১৫ জুন – দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে আড়াই ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তার ঘটনাটি এবার গড়িয়েছে জাতীয় সংসদে। যথাযথ কূটনৈতিক প্রোটোকল থাকার পরেও কেন বাংলাদেশের একজন ভিভিআইপিকে ভারতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হলো—তা নিয়ে সংসদ অধিবেশনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (ঢাকা-১২ আসন) সাইফুল আলম খান মিলন।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই নজিরবিহীন কূটনৈতিক ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের কী পদক্ষেপ, তা জানিয়ে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেন।
সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমি যতটুকু জেনেছি, যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি দেওয়ার পরও দুই ঘণ্টা দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী এয়ারপোর্টে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হলেও (অপমানের প্রতিবাদে) তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “এ ব্যাপারে আসলে আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা কী এবং সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এটা নিয়ে ৩০০ বিধিতে আমি মন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।”
জামায়াত এমপির এই জোরালো দাবির জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় সদস্য, এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। তবে আপনি এই বিষয়ে সংসদে নোটিশ দিতে পারেন। তখন আমি বিষয়টি বিবেচনা করব।” স্পিকার নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার কথা বললেও, এই ইস্যুটি যে সংসদ সেশনকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে, তা স্পষ্ট।
আজ সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের। বাংলাদেশ হাই কমিশন গত শুক্রবারই দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠির মাধ্যমে এই সফরের কথা জানিয়েছিল।
তা সত্ত্বেও গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি পৌঁছালে ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত ওয়াচ লিস্টের ভুল প্রশাসনিক ত্রুটি’র অজুহাতে তাকে বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন। পরে ভারতের উচ্চ মহলের নির্দেশে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে তিনি ভারতে না ঢুকে কলম্বো হয়ে আজ সোমবার দুপুরে ঢাকায় ফিরে আসেন। এই ঘটনার পর ইতিমধ্যেই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এনএন/ ১৫ জুন ২০২৬









