ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বাড়তে থাকা দূরত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মেরুকরণ

তেল আবিব, ১৫ জুন – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তেহরানকে দুর্বল করার যে পরিকল্পনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু করেছিলেন, তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথে অগ্রগতির ফলে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন অভিযানে ব্যস্ত থাকা এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহু বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় এই চুক্তির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, এই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন দাবি করছে যে ৬০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ইসরায়েলের আশঙ্কা, এই দীর্ঘ আলোচনা তাদের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করে দেবে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোন আলাপেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। বিশেষ করে বৈরুতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের কঠোর সতর্কবার্তা এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, তারা দখল করা বাফার জোনগুলো থেকে সেনা সরাবে না।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জনমতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ছে।
এনএন/ ১৫ জুন ২০২৬









