হতাশা থেকেই ইরানের সাথে চুক্তি করেছেন ট্রাম্প, বললেন মোজতবা খামেনি

তেহরান, ১৯ জুন – বিশ্ব রাজনীতিতে এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মোড়! দীর্ঘদিনের চরম শত্রু রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এক চুক্তি। আর এই চুক্তি নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে তাঁর প্রথম বক্তব্যেই কোনো নমনীয়তা নেই, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি খোঁচা দিয়ে তিনি বলেছেন— কোনো আন্তরিকতা থেকে নয়, বরং চরম ‘হতাশা’ থেকেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তাঁর বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর মার্চ মাসে দেশের দায়িত্ব নিলেও এত দিন মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তাঁর এই প্রথম প্রতিক্রিয়া এখন ওয়াশিংটন থেকে তেল আবিব— সবখানে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির বিষয়ে তাঁর নিজস্ব কিছু ‘ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ বা দ্বিমত ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি এই চুক্তিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন কেবল একটি কারণে। সেটি হলো— ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া বিশেষ আশ্বাস। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘ইরানি জাতির অধিকার সম্পূর্ণ রক্ষা’ করা হবে। তবে নিজের ভিন্ন মতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি খামেনি।
আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের হতাশা ঢাকতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা পেতে ‘সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে’ এই চুক্তিটি করিয়েছেন। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভবিষ্যতে যদি সরাসরি কোনো আলোচনা বা বৈঠক হয়ও, তার অর্থ এই নয় যে ইরান মার্কিনদের শত্রুর অবস্থান থেকে মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ, টেবিলের আলোচনা চললেও মাঠের লড়াই ও আদর্শিক অবস্থান বদলাচ্ছে না।
খামেনির এই ঝাঁজালো বক্তব্যের সরাসরি কোনো পাল্টা জবাব দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি আশা করছেন এই চুক্তির পর ইসরায়েল এবং লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে দ্রুত একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে। একদিকে খামেনির কড়া সুর নিজের দেশের কট্টরপন্থীদের শান্ত রাখার কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আশা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পর্দার আড়ালে হয়তো বড় কোনো রফা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আসলেই শান্তির সুবাতাস আনে, নাকি এটি কেবলই ঝড়ের আগের পূর্বাভাস!
এনএন/ ১৯ জুন ২০২৬









