ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা

বৈরুত, ৯ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চব্বিশ ঘণ্টা পার না হতেই লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার এই হামলায় দেশটির রাজধানী বৈরুত এবং অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত ২৫৪ জন নিহত ও এক হাজার ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই তারা এই অভিযান পরিচালনা করেছেন।
টানা আটত্রিশ দিনের সংঘাতের পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পনেরো দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এই চুক্তিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই লেবাননে একযোগে শতাধিক হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে এই অভিযানে তাদের পঞ্চাশটি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং মাত্র দশ মিনিটে একশ বারের বেশি বোমাবর্ষণ করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী বোমা ফেলার কারণে প্রাণহানি ও ধ্বংসের মাত্রা অনেক বেশি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আহত মানুষকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চরম সংকটে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও ধ্বংসস্তূপ থেকে আটকা পড়াদের বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে লেবাননে এমন ধ্বংসযজ্ঞের জেরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে আসবে।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেডক্রস সোসাইটি আবাসিক এলাকায় পূর্ব সতর্কতা ছাড়া এমন হামলার কড়া সমালোচনা করে একে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই এমন রক্তপাত গভীর উদ্বেগজনক। তিনি ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন।
এনএন/ ৯ এপ্রিল ২০২৬









