মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন: টানা তিন বছর হজ পালন থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

জেরুজালেম, ২৪ মে – মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর টানা তিন বছরের আগ্রাসনের কারণে পবিত্র হজ পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গাজা উপত্যকার হাজার হাজার মুসলিম। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং রাফা সীমান্ত বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চলতি বছর গাজা থেকে নিবন্ধিত ২ হাজার ৪০২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে পারেননি। এছাড়া হজে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি হামলা ও স্বাভাবিক কারণে ৭১ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।

প্যালেস্টাইন ক্রনিকলস ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা যখন সৌদি আরবে জড়ো হচ্ছেন, তখন গাজাবাসীরা অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে কার্যত এক উন্মুক্ত কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করছেন।

গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ও ওমরাহ বিভাগের মহাপরিচালক রামি আবু জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে ফিলিস্তিনের জন্য নির্ধারিত ৬ হাজার ৬০০ জনের কোটার মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ থাকত গাজার জন্য। তবে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে বিগত তিন বছর ধরে গাজার বাসিন্দারা এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

প্রতিবেদনে সৌদ হাজ্জাজ নামে গাজার এক নারীর হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হজে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও ইসরায়েলি হামলায় তার স্বামী নিহত হন এবং বাড়িটিও ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমানে ইয়ারমৌক স্টেডিয়ামে আশ্রয় নেওয়া এই নারী জানান, তার হজের জন্য জমানো সব অর্থ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

উল্লেখ্য যে, যুদ্ধের আগে গাজার হজযাত্রীরা সাধারণত রাফা ক্রসিং হয়ে মিশরের কায়রো দিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের মে মাসে রাফা সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ ইসরায়েলি বাহিনী দখলে নেওয়ার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে গাজার বাসিন্দাদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং হজযাত্রীদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এনএন/ ২৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language